তালের বড়া রেসিপি জন্মাষ্টমী মানেই গোপালের আরাধনা আর ঘরে ঘরে তালের বড়া। পুজোর ব্যস্ততার ফাঁকেই সকাল থেকে তালের বড়া খাওয়ার লোভ ক্রমশ বাড়তে বাড়তে বাড়ির ছোট থেকে বড়, সকলের মধ্যেই। কৃষ্ণের আরাধনায় নানারকমের ভোগপ্রসাদ থাকে, কিন্তু মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের তালের বড়া। জন্মাষ্টমীর দিন তালের বড়া হবে না, এমন বাঙালি বাড়ি খুঁজে পাওয়া যায় না বললেই চলে। কিন্তু অনেকেই সঠিক ভাবে তালের বড়া বানানোর রেসিপিটা জানেন না। তাঁদের জন্য রইল এই প্রতিবেদন।
ভাদ্র মাসে পাকা তালের মিষ্টি গন্ধ আর স্বাদে তৈরি এই বড়া আট থেকে আশি, প্রায় সকলেরই অত্যন্ত প্রিয়। জন্মাষ্টমীর দিন বেশিরভাগ বাড়িতেই কৃষ্ণের ভোগ হিসেবে তৈরি করা হয় তালের বড়া। তবে বাজার থেকে কিনে আনার বদলে বাড়িতেই খুব সহজে বানিয়ে ফেলতে পারেন এই সুস্বাদু বড়া।
তালের বড়া বানাতে কী কী লাগবে?
পাকা তাল: ১টি
চালের গুঁড়ো: ১ কাপের মতো
সুজি: ২-৩ টেবিল চামচ
নারকেল কোরা: ১ কাপ
চিনি বা গুড়: স্বাদমতো
এলাচ গুঁড়ো: সামান্য
নুন: এক চিমটে
তেল: ভাজার জন্য
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে পাকা তাল ভাল করে চেঁছে বা ঘষে শাঁস বের করে নিন। এরপর তালটি ভাল করে ছেঁকে নিতে হবে, যাতে আঁশ এবং শক্ত অংশ বাদ যায়। তালের শাঁস একটি বড় পাত্রে নিয়ে তার সঙ্গে নারকেল কোরা, চিনি বা গুড়, সুজি এবং সামান্য এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন।
এবার অল্প অল্প করে চালের গুঁড়ো দিয়ে মিশ্রণটি মাখতে থাকুন। খেয়াল রাখবেন, মিশ্রণটি যেন খুব শক্ত না হয়ে যায়। প্রয়োজন হলে সামান্য জল দিতে পারেন। এরপর মিশ্রণটি কিছুক্ষণ রেখে দিন, যাতে সুজি ও চালের গুঁড়ো ভালোভাবে মিশে যায়।
কড়াইয়ে তেল গরম করে আঁচ মাঝারি করে নিন। হাতের তালুতে সামান্য তেল মেখে মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট অংশ নিয়ে গোল বা চ্যাপ্টা আকারে তৈরি করুন। এবার সাবধানে গরম তেলে দিয়ে ধীরে ধীরে ভাজুন।
দুই দিক ভাল ভাবে বাদামি ও খাস্তা হয়ে গেলে তালের বড়া তুলে নিন। টিস্যু বা ঝাঁঝরিতে রেখে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে ফেলুন। ব্যস জন্মাষ্টমীর বিশেষ তালের বড়া তৈরি। বাইরে হালকা খাস্তা আর ভিতরে নরম, মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত, গরম গরম পরিবেশন করলে হবে আরও সুস্বাদু। তাহলে গোপালের ভোগে আর বাজার থেকে কেনা নয়, নিজে হাতেই বানিয়ে নিন তালের বড়া।