সাপ বর্ষার মরসুম মানেই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ আর ঝোপঝাড়ে জল জমার সমস্যা। আর এই সময়েই বাড়ে সাপের উপদ্রব। টানা বৃষ্টিতে নিজেদের আস্তানা জলে ডুবে গেলে নিরাপদ ও শুকনো আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে, এমনকী বসত বাড়িতেও ঢুকে পড়ে সাপ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথির আগমনে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই বাজার চলতি দামি রাসায়নিক বা কার্বলিক অ্যাসিডের মতো কীটনাশকের ওপর ভরসা রাখেন। তবে এই সমস্যার এক দারুণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধান রয়েছে খোদ প্রকৃতির কাছেই। এমন কিছু সাধারণ গাছ আছে, যাদের গন্ধে সাপ ১০০ হাত দূরে থাকে। বাড়ির আশেপাশে এই গাছগুলি বসালে বিষধররা ধারেকাছেও ঘেঁষবে না।
কী কী সেই গাছ?
গাঁদা গাছের জাদুকরী প্রভাব
শীতকালীন বাগানের অন্যতম আকর্ষণ হলেও, গাঁদা ফুল সাপের কাছে রীতিমতো বিভীষিকা। এই গাছের শেকড় থেকে এক বিশেষ ধরনের কড়া গন্ধ নির্গত হয়, যা সাপের স্নায়ুকে প্রবলভাবে বিভ্রান্ত করে। ঘ্রাণশক্তি গোলমাল হয়ে যাওয়ায় সাপ এই গাছের আশেপাশের এলাকা এড়িয়ে চলতে বাধ্য হয়। বাড়ির সীমানা পাঁচিল বা মূল ফটকের কাছে সারি দিয়ে গাঁদা গাছ লাগালে সাপের প্রবেশ অনেকটাই আটকানো সম্ভব।
লেমনগ্রাস বা গন্ধবেণায় বাজিমাত
চায়ের স্বাদ বাড়াতে লেমনগ্রাস বা গন্ধবেণার জুড়ি মেলা ভার। তবে এর আরও এক চমৎকার গুণ রয়েছে। লেমনগ্রাসে থাকা সাইট্রাস অয়েল এবং এর তীব্র গন্ধ প্রাকৃতিক ‘স্নেক রিপেল্যান্ট’ বা সাপ তাড়ানোর ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এই কড়া গন্ধে সাপের ঘ্রাণশক্তি সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। বাড়ির টবে বা বাগানের এক প্রান্তে খুব সহজেই এই গাছ ফলানো যায়।
স্নেক প্লান্ট এবং ক্যাকটাস
নাম ‘স্নেক প্লান্ট’ হলেও বাস্তবে এই গাছ সাপকে দূরে রাখতেই সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ক্যাকটাস বা ফণীমনসার মতো কাঁটাযুক্ত গাছ বাগানের চারপাশে একটি দুর্ভেদ্য প্রাকৃতিক বেষ্টনী তৈরি করতে পারে। সাপের পেটের দিকের চামড়া অত্যন্ত নরম ও সংবেদনশীল হয়। তাই আঘাত পাওয়ার ভয়ে তারা স্বভাবতই কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড় বা গাছপালার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে।
শুধু গাছ নয়, জরুরি কিছু সতর্কতাও
কেবল গাছ লাগিয়েই নিশ্চিন্ত হলে চলবে না, বর্ষায় বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখাও সমান জরুরি। বাগানের এক কোণে স্তূপ করে রাখা শুকনো পাতা, জ্বালানি কাঠের টুকরো বা পুরনো আবর্জনা সাপের আদর্শ লুকনোর জায়গা। তাই নিয়মিত ঝোপঝাড় ছেঁটে ফেলা এবং বাড়ির আশেপাশে যাতে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা প্রয়োজন। এই সামান্য কয়েকটি সতর্কতা মেনে চললেই বর্ষার মরসুমে সাপের আতঙ্ক থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।