Insects Removal From Suji: স্যাঁতসেঁতে বর্ষায় সুজিতে পোকা ধরছে? এই ঘরোয়া টোটকায় মুশকিন আসান হবে

Kitchen Hacks: বর্ষার মরসুমে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ এতটাই বেশি থাকে যে রান্নাঘরের চাল, ডাল, ময়দা বা সুজি খুব দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। বিশেষ করে সুজি বা রওয়া যদি একটু অসাবধানতাবশত রাখা হয়, তবে তাতে পোকা ধরা বা ছত্রাক পড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। 

Advertisement
স্যাঁতসেঁতে বর্ষায় সুজিতে পোকা ধরছে? এই ঘরোয়া টোটকায় মুশকিন আসান হবে  সুজি

আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর একটানা বৃষ্টি যেমন তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দেয়, তেমনই গৃহিণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজও বাড়িয়ে তোলে। এই মরশুমে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ এতটাই বেশি থাকে যে রান্নাঘরের চাল, ডাল, ময়দা বা সুজি খুব দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। বিশেষ করে সুজি বা রওয়া যদি একটু অসাবধানতাবশত রাখা হয়, তবে তাতে পোকা ধরা বা ছত্রাক পড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। 

একবার সুজিতে আর্দ্রতা ঢুকে গেলে তার স্বাদ ও গুণগত মান দুই-ই নষ্ট হয়। তবে রান্নাঘরের সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললে এই বর্ষাতেও সুজি থাকবে একেবারে ঝরঝরে ও ফ্রেশ। সুজি ভাল রাখার কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়, জেনে নিন।

এয়ারটাইট পাত্রের ব্যবহার: বর্ষাকালে সুজি ভাল রাখার প্রথম শর্তই হল কোনও খোলা প্যাকেট বা আলগা ঢাকনাযুক্ত কৌটোয় না রাখা। সুজি কেনা বা ব্যবহারের পর সবসময় একটি পরিষ্কার, শুকনো এবং ভাল এয়ারটাইট কাচ বা প্লাস্টিকের পাত্রে ভরে রাখুন। এতে বাইরের আর্দ্র বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারবে না।

রোদের ছোঁয়া: বর্ষার দিনে মাঝেমাঝে মেঘ কেটে যদি একটু কড়া রোদ ওঠে, তবে অলসতা না করে সুজিটুকু আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার জন্য রোদে দিন। রোদের তাপে সুজির ভেতরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা উবে যায়, ফলে পোকা লাগার আশঙ্কা অনেকটাই কমে। তবে খেয়াল রাখবেন, খুব বেশি কড়া রোদে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখবেন না।

তেজপাতার ম্যাজিক: সুজি রাখার পাত্রে ২-৩টি শুকনো তেজপাতা ফেলে রাখতে পারেন। তেজপাতার নিজস্ব একটি কড়া গন্ধ রয়েছে, যা সুজিতে কোনো রকম পোকা বা ঘুন ধরতে দেয় না। এটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং কার্যকরী একটি ঘরোয়া টোটকা।

ফ্রিজের সাহায্য: যাদের রান্নাঘরে বা ফ্ল্যাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব বেশি থাকে, তারা সুজি বাইরে না রেখে সরাসরি ফ্রিজে তুলে রাখতে পারেন। এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে ফ্রিজের সাধারণ তাপমাত্রায় (নরমাল ফ্রিজ) রেখে দিলে সুজি মাসের পর মাস ভাল থাকে এবং আর্দ্রতা ছোঁয়ার কোনও সুযোগ পায় না।

Advertisement

শুকনো চামচ ব্যবহার: অনেক সময় আমরা তাড়াহুড়ো করে রান্না করার সময় ভেজা হাতে বা ঘি-তেল লেগে থাকা চামচ দিয়ে সুজি তুলে নিই। এই অভ্যাসটি সুজি দ্রুত নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। সুজি বের করার সময় সবসময় পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ শুকনো চামচ ব্যবহার করুন।

অল্প পরিমাণে কিনুন: এই মরশুমে একসঙ্গে অনেকটা সুজি কিনে মজুত না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে কিনলে তা দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না। যদি প্যাকেটের কিছুটা অংশ বেঁচে যায়, তবে সেটি ক্লিপ দিয়ে ভাল করে মুড়ে রাখুন।

সঠিক জায়গায় সংরক্ষণ: রান্নাঘরের সিঙ্ক বা গ্যাসের চুল্লির আশেপাশে যেখানে জলের ছিটে বা রান্নার ভাপ বেশি লাগে, সেইসব জায়গা থেকে সুজির কৌটো দূরে রাখুন। রান্নাঘরের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও শুকনো তাকে এটি রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।

মাঝে মধ্যে দিন দশেক অন্তর সুজির পাত্রটি একবার খুলে দেখে নেওয়া ভাল। যদি মনে হয় সামান্য দলা পাকিয়ে যাচ্ছে বা আর্দ্রতা ধরেছে, তবে শুকনো কড়াইয়ে তেল ছাড়া হালকা নেড়েচেড়ে ঠান্ডা করে আবার তুলে রাখতে পারেন। এই সামান্য কিছু সতর্কতা মেনে চললেই বর্ষার দিনেও আপনার হাতের সুজির হালুয়া বা উপমা হবে একদম নিখুঁত।

 

POST A COMMENT
Advertisement