বন্ধুরা কীভাবে সুগার কমাতে সাহায্য করে? সুগার প্রতিরোধের অনেক উপায় আছে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে সর্বক্ষণ বন্ধুদের সঙ্গ পেলেও এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ভারতে করা একটি গবেষণায় এমনই তথ্য সামনে এসেছে। এই গবেষণা অনুসারে, যাঁরা স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল মেনে চলেন এবং বন্ধুদেরও তাতে উৎসাহিত করেন, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক কম। এই গবেষণা ভারতের কেরলমে ৯ বছর ধরে করা হয়েছিল। এর ফলাফল ডায়াবেটিস প্রতিরোধে পারস্পরিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে। এই গবেষণাটি বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল 'দ্য ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণাটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে করা হয়েছিল। এই গবেষণায় ভারতের কেরলম রাজ্যের ৬০টি ভোট কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৭ জন ব্যক্তিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। যাঁদের সকলের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ছিল এবং ভবিষ্যতেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ছিল। এই সমস্ত ব্যক্তিদের HBA1c-এর মান ছিল ৫.৬-এর বেশি এবং ৬-এর কম। যার অর্থ তাঁরা ডায়াবেটিসের একেবারে দোরগোড়ায় ছিলেন।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ২টি দলে ভাগ করা হয়েছিল। একটি দলকে বন্ধুদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল। তাঁদের একে অপরকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করতে বলা হয়েছিল। প্রতি মাসে একটি বৈঠক করে একে অপরকে সাহায্য করতেন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করতেন। অন্য দলটিকে কেবল একটি বই দেওয়া হয়েছিল। এরা কারও কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাননি।
প্রতিবছর সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। ৯ বছর পর ১ হাজার ৭ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৮৪১ জন বেঁচেছিলেন। শেষ বছরে ফের সকলের HBA1c পরীক্ষা হয়। দেখা যায়, বন্ধুদের উৎসাহিত করা দলের ৪১৯ জনের মধ্যে ১৪২ জনের এই রোগ রয়েছে। যাঁরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা কম।
বন্ধুদের সংস্পর্শে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২৮ শতাংশ কম ছিল।
দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন ক্লিনিকের অধ্যাপক ডা. যুগল কিশোর জানান, বন্ধু এবং সহকর্মীদের সমর্থনে ভাল জীবনযাত্রার অভ্যাস গড়ে তুললে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। একে বলা হয় পিয়ার সাপোর্ট লাইফস্টাইল।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করুন। মানসিক চাপ নেবেন না। স্থূলতা বাড়তে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ কুরুন। বেশি মিষ্টি খাবেন না। ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।