প্রতীকী ছবি বয়স ৫০ ছুঁলেও ত্বকের জেল্লা যেন ৩০-এর মতো থাকে- এমনটা কে না চান! ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে অনেকেই বাজার চলতি নামীদামি প্রসাধন সামগ্রীর পিছনে কাড়িকাড়ি টাকা খরচ করেন। আবার কেউ কেউ নিয়মিত পার্লারে গিয়ে দামি বিউটি ট্রিটমেন্টের সাহায্য নেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, দীর্ঘদিন ধরে ত্বক নরম, উজ্জ্বল এবং বলিরেখামুক্ত রাখতে সব সময় এত টাকা খরচ করার প্রয়োজন হয় না?
আমাদের রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু ঘরোয়া উপাদানের সাহায্যেই ত্বকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, আর্দ্রতা এবং স্বাভাবিক জেল্লা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সব চেয়ে বড় কথা, এই ফেস সিরাম তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনই পকেটেরও সাশ্রয় হয়। জেনে নিন, কীভাবে বাড়িতেই তৈরি করবেন এই ফেস সিরাম, যা বলিরেখা, কালচে দাগ এবং রুক্ষতা দূর করে ত্বকে এনে দেবে এক জাদুকরী চমক।
মাত্র ৩ উপাদানেই তৈরি হবে সিরাম
এই জাদুকরী সিরাম তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন হবে কেবল তিনটি জিনিসের
চালের জল: ২ চা চামচ
অ্যালোভেরা জেল: ১ চা চামচ
ভিটামিন ই (Vitamin E) ক্যাপসুল: ২টি
তৈরির পদ্ধতি
একটি পরিষ্কার পাত্রে এই তিনটি উপাদান খুব ভাল করে মিশিয়ে নিন। ব্যস, আপনার ফেস সিরাম একেবারে তৈরি! এবার মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার কাঁচের বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন।
কেন এই উপাদানগুলি ত্বকের জন্য এত উপকারী?
১. জেল্লা ফেরাতে চালের জল: কোরিয়ান বিউটি হ্যাকস-এ চালের জলের কদর বিশ্বজোড়া। এতে এমন কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা ত্বককে সতেজ রাখতে এবং প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বহুগুণে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
২. আর্দ্রতা জোগাতে অ্যালোভেরা জেল: ত্বককে ভিতর থেকে আর্দ্র করার পাশাপাশি নরম ও সতেজ রাখতে অ্যালোভেরা জেলের জুড়ি মেলা ভার। এটি ত্বকের জ্বালাভাব কমায় এবং দাগছোপ হালকা করে।
৩. পুষ্টি জোগাতে ভিটামিন ই: ত্বককে সুস্থ ও পুষ্ট রাখতে ভিটামিন ই অপরিহার্য। এটি ত্বককে রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা পড়তে দেয় না।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
সিরাম মাখার আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ খুব ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।
এরপর সিরামের কয়েক ফোঁটা নিয়ে মুখ এবং ঘাড়ে আলতো করে লাগান।
২ থেকে ৩ মিনিট হাতের আঙুল দিয়ে চক্রাকারে মালিশ করুন, যাতে সিরাম ত্বকের গভীরে ঠিকমতো শোষিত হতে পারে।
কখন মাখবেন: সব চেয়ে ভাল ফল পেতে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই সিরাম ব্যবহার করাই শ্রেয়।
মাথায় রাখুন জরুরি এই বিষয়গুলি
প্রথমবার পুরো মুখে মাখার আগে কানের পিছনে বা হাতের অল্প একটু অংশে লাগিয়ে অবশ্যই 'প্যাচ টেস্ট' করে নিন।
ব্যবহারের পর ত্বকে কোনও রকম জ্বালাভাব বা লালচে র্যাশ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ এটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন।
সিরামটি সব সময় একটি পরিষ্কার ও শুকনো বোতলে রাখবেন, যাতে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে না পারে।
সব শেষে মনে রাখবেন, কোনও ঘরোয়া টোটকাই রাতারাতি ম্যাজিক দেখাতে পারে না। নিয়মিত ত্বকের যত্নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ও সুষম ডায়েট মেনে চললে তবেই ধীরে ধীরে ত্বকের জেল্লা ও গঠনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আপনার চোখে পড়বে।