মুড অফ-এ কেন জাঙ্ক ফুড খেতে ইচ্ছে করে?মন খারাপ হলে অনেক সময়ই আমাদের মিষ্টি, মুখরোচক বা তেলে ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হয়। এই সময় চকোলেট, আইসক্রিম, পিৎজ্জা ও চিপস খেতে ভালই লাগে। মন খারাপ হলে কোনও বোরিং খাবার খেতে একেবারে মন চায় না। খাবারের এই অভ্যাসকেই কমফোর্ট ইটিং বলা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন মন খারাপ হলেই এই ধরনের জাঙ্ক ফুড বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে তীব্রভাবে দেখা যায়। মন খারাপ ও মিষ্টি বা জাঙ্ক ফিড খাওয়ার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে। গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে এর উত্তর। ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়েছে এই আর্টিকালটি।
গবেষণায় কী পাওয়া গিয়েছে?
ব্রিটেনের ১২০৩ জনের ওপর এই গবেষণা করা হয়েছে আর এতে জানা গিয়েছে যে কিছু বিশেষ খাবার খাওয়ার আগেই সেই খাবার থেকে মন খুশি হবে, এই প্রত্যাশা করে বসেন তারা। আর এই প্রত্যাশা থেকেই তারা এই ধরনের খাবারের প্রতি বেশি করে আকর্ষিত হন। গবেষণায় এই ১২০৩ জনকে ৩৬ ধরনের খাবার ও পানীয়ের ছবি দেখানো হয়। এর মধ্যে ফাস্ট ফুড, চকোলেট, আইসক্রিম, কেক, ফল, সবজি ও প্যাকেটজাত ড্রিঙ্কসও রয়েছে। এরপর এদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই খাবারগুলো খাওয়ার কল্পনা করলে তারা ঠিক কেমন অনুভব করছেন? সকলেই নিজের নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন গবেষকদের কাছে। গবেষণায় চকলেটকে ৪.০৮, স্ট্রবেরি ৪.০৭ ও কেক ৩.৯৯ নম্ব পেয়েছে। অপরদিকে স্যালাড ও সেদ্ধ গাজরের নম্বর ছিল যতাক্রমে ২.৯৩ ও ২.৯৬।
কেন মন খারাপের সময় জাঙ্ক ফুড খেতে ইচ্ছে করে?
মন খারাপের সময় কেন জাঙ্ক ফুড খেতে ইচ্ছে করে, এই বিষয়টি বোঝার জন্য গবেষকরা প্রত্যাশা তত্ত্বের সাহয্য নিয়েছেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, আমাদের মস্তিষ্ক অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শেথে এবং ভবিষ্যতেও একই রকমের ফলাফলের প্রত্যাশা করতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, ছোটবেলায় আমরা কাঁদলে আমাদের মা-বাবা চকোলেট বা লজেন্স দিয়ে শান্ত করতেন অথবা পরীক্ষায় ভাল ফল করলে মিষ্টি খাওয়ানো হত কিংবা কোনও আনন্দ উপলক্ষ্যে পিৎজ্জা পার্টি করা হত...যার ফে আমাদের মস্তিষ্ক এই বিষয়গুলিকে সুখ ও স্বস্তির সঙ্গে যুক্ত করে ফেলে। যা ধীরে ধীরে একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। প্রাপ্তবয়স্ক বা বড় হওয়ার পর আমরা যখন মানসিক চাপ বা দুঃখ অনুভব করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই একই খাবারগুলোর জন্য আকর্ষণ বোধ করে। সে তখন বিশ্বাস করে যে মন খারাপের সময় চকোলেট বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খেলে তার মন ভাল হয়ে যাবে।
মন খারাপ হলে বেশি খাবার খেতে ইচ্ছে হয়
এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ৫৪ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপে থাকলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খান। যারা সাধারণত অল্প চকোলেট খান, তারা মানসিক চাপে পড়লে বেশি খেয়ে ফেলেন। তবে গবেষণা বলছে যে এই অতিরিক্ত খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। মানসিক চাপের কারণে বারবার অতিরিক্ত ক্যলোরি ও চিনি খেলে ওজন বৃদ্ধি ও বিপারীয় রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জাঙ্ক ফুড বেশি খাবেন না
মন খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে জাঙ্ক ফুড বা চকোলেট-মিষ্টি খাবেন না। খাওয়ার আগে এক মিনিট অপেক্ষা করুন। মানসিক চাপের মধ্যে যখন চকোলেট বা চিপস খাওয়ার ইচ্ছে জাগে, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে আপনার কি সত্যিই এগুলো খাওয়ার ইচ্ছে এখন হচ্ছে? নাকি কোনও সমস্যা থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য এই খাবারগুলো খেতে চাইছেন? তাই মন খারাপ হলে এই খাবারগুলো কম খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং এর পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর কিছু খান।