Heat Stroke Treatment: হিট স্ট্রোক বাড়ছে, লক্ষণ কী? প্রতিরোধ কীভাবে? নামী ডাক্তাররা যা জানালেন

প্রচণ্ড গরম পড়েছে কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে। সকাল থেকেই রোদের তেজ। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও বেড়েছে। তাই যতটা না তাপমাত্রা, তার থেকেও গরম লাগছে বেশি। পাশাপাশি প্রচুর ঘাম হচ্ছে। শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে জল এবং জরুরি খনিজ। আর এমন আবহাওয়াতেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বলে জানাচ্ছেন কলকাতার সব তাবড় চিকিৎসকেরা। 

Advertisement
হিট স্ট্রোক বাড়ছে, লক্ষণ কী? প্রতিরোধ কীভাবে? নামী ডাক্তাররা যা জানালেনহিট স্ট্রোক
হাইলাইটস
  • প্রচণ্ড গরম পড়েছে কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে
  • সকাল থেকেই রোদের তেজ
  • এমন আবহাওয়াতেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা

প্রচণ্ড গরম পড়েছে কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে। সকাল থেকেই রোদের তেজ। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও বেড়েছে। তাই যতটা না তাপমাত্রা, তার থেকেও গরম লাগছে বেশি। পাশাপাশি প্রচুর ঘাম হচ্ছে। শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে জল এবং জরুরি খনিজ। আর এমন আবহাওয়াতেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বলে জানাচ্ছেন কলকাতার সব তাবড় চিকিৎসকেরা। 

এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: আশিস মিত্র বলেন, 'হিট স্ট্রোক একবারে শেষ পর্যায়ের সমস্যা। এর আগে হিট ক্র্যাম্প হয়। সেক্ষেত্রে পেশিতে টান ধরে। তারপর হয় হিট এক্সহউশন। এই সময় শরীরে অস্বস্তি, প্রচণ্ড ঘাম, ক্লান্তি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। তৃতীয় পর্যায়ে হিট সিনকোপ হয়। এই সময় অত্যধিক গরমের জন্য রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। আর শেষ পর্যায়ে হতে পারে হিট স্ট্রোক। এক্ষেত্রে শরীর খুব গরম হয়ে যায়। দেহের তাপমাত্রা ১০৩-১০৪ ডিগ্রিতে পৌঁছে যেতে পারে।' 

বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: রুদ্রজিৎ পাল জানালেন, হিট স্ট্রোক খুবই জটিল একটি অসুখ। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যেই এই রোগের দাপট থাকে বেশি।

হিট স্ট্রোক রোগটা কী? 
এই বিষয়টা সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: উৎসব দাস। তিনি বলেন, 'আমাদের মধ্যে হিট স্ট্রোক নিয়ে সচেতনতা কম। হিট স্ট্রোক হল এমনই একটা সমস্যা, যেখানে হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে শরীর মানিয়ে উঠতে পারে না। এর ফলে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটাই হল সহজ ভাষায় হিট স্ট্রোক।'

লক্ষণ কী? 
এই অসুখের উপসর্গগুলি সম্পর্কে ডা: দাস জানান-
১. রোগীকে ঘিরে ধরতে পারে বিভ্রান্তি
২. কথা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে
৩. রোগী ভুল বকতে পারেন
৪. রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন
৫. রোগীর শরীরের তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে

এগুলিই মূলত রোগের লক্ষণ। এগুলি দেখলেই সাবধান হতে হবে। 

Advertisement

চিকিৎসা কী? 
ডা: মিত্র বলেন, 'যেই রোগীর হিট স্ট্রোক হয়েছে, তিনি কিছুই করতে পারবেন না। তাঁর আশপাশে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত চোখে মুখে ঠান্ডা জল বা বরফ দিতে হবে। রোগীকে রোদ থেকে সরিয়ে আনতে হবে। তারপর আনতে হবে হাসপাতাল। সেখানে রোগীর জামা-কাপড় খুলে টাওয়েল দিয়ে ঢেকে শরীর ঠান্ডা করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হতে পারে আইভি ফ্লুইড।'

ডা: পালের কথায়, যত দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়, ততই ভাল। দেরি করলেই বিপদ বাড়বে। মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। 

রোগ প্রতিরোধ করুন
এই অসুখ প্রতিরোধের টিপস দিলেন ডা: পাল
১. রোদ মাথায় রাস্তায় বেরনো যাবে না
২. বেরতে হলে মাথায় থাকুক ছাতা
৩. হালকা জামা-কাপড় পরে বেরতে হবে
৪. এসি থেকে বেরিয়েই রোদে যাবেন না, আগে একটু দাঁড়িয়ে তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিন
৫. এই সময় হালকা খাবার খান
৬. পরিমিত জল পান করতে হবে

ব্যাস, এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকতে পারবেন।

বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

 

POST A COMMENT
Advertisement