Summer Kidney Care: তীব্র দাহদাহে বিকল হতে পারে কিডনি, সুস্থ থাকার বিশেষজ্ঞদের দাওয়াই

Summer Dehydration Kidney Risk: প্রচণ্ড গরমে শরীরের জলীয় অংশ দ্রুত হ্রাস পায়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে কিডনির উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিহাইড্রেশন কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস করে এবং কিডনি স্টোন বা অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরির মতো জটিলতা ডেকে আনতে পারে।

Advertisement
Summer Kidney Care: তীব্র দাহদাহে বিকল হতে পারে কিডনি, সুস্থ থাকার বিশেষজ্ঞদের দাওয়াই Summer Kidney Care: তীব্র দাহদাহে বিকল হতে পারে কিডনি! সুস্থ থাকার বিশেষজ্ঞদের দাওয়াই

Summer Dehydration Kidney Risk: শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা ও বিষমুক্ত রাখতে চব্বিশ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে যে অঙ্গটি, তা হলো আমাদের কিডনি। রক্ত পরিশোধন করার পাশাপাশি শরীর থেকে যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়াই এর প্রধান কাজ। শুধু তাই নয়, আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরে লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি এবং অ্যাসিড ও খনিজ পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখতেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই তীব্র গরমে আপনার অজান্তেই মারাত্মক বিপদে পড়তে পারে শরীরের এই প্রধান ছাঁকনিটি।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, প্রচণ্ড গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীরের জলীয় অংশ খুব দ্রুত হ্রাস পায়। আর এর সরাসরি ও সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে কিডনির ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা একধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। যার জেরে কিডনিতে পাথর (Kidney Stone) হওয়া বা ‘অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি’র মতো অত্যন্ত জটিল ও প্রাণঘাতী রোগ অনায়াসে থাবা বসাতে পারে শরীরে।

গরমে কেন বাড়ে কিডনির সমস্যা?
গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীর থেকে দেদার ঘাম বেরোনোর ফলে আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স বা ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শরীরে প্রচুর ঘাম হওয়া সত্ত্বেও যদি পর্যাপ্ত জল পান না করা হয়, তবে প্রস্রাব অতিরিক্ত ঘন হয়ে যায়। আর এই ঘন প্রস্রাবই কিডনির ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে। এর ওপর যদি মরশুমের খামখেয়ালিপনায় অতিরিক্ত প্রোটিন, তেল-মসলা বা ভাজাভুজি জাতীয় খাবার খাওয়া হয়, তবে কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হতে হয়, যা ডেকে আনে চরম বিপর্যয়।

কিডনিকে সতেজ ও সুরক্ষিত রাখার সহজ উপায়:
তীব্র গরমেও যাতে আপনার কিডনি একদম তরতাজা থাকে, তার জন্য কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা।

জলের জোগান: তৃষ্ণা পাক বা না পাক, দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল নিয়ম করে পান করতেই হবে।

Advertisement

প্রাকৃতিক পানীয়: সাধারণ জলের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখুন তাজা লেবু জল, ডাবের জল কিংবা ওআরএস (ORS) জাতীয় হাইড্রেটিং পানীয়।

রং পরীক্ষা: নিজের প্রস্রাবের রঙের দিকে কড়া নজর রাখুন। প্রস্রাবের রং যদি অতিরিক্ত ঘন হলুদ দেখায়, তবে বুঝবেন শরীরে জলের ঘাটতি মারাত্মক।

রোদ থেকে বাঁচুন: দুপুরের তীব্র রোদের মধ্যে বাইরে ভারী কাজ করা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। সুযোগ থাকলে মাঝে মাঝে ছায়ায় বা এসির ঠাণ্ডা পরিবেশে জিরিয়ে নিন।

খাবারে বদল: শরীর ঠাণ্ডা রাখতে তরমুজ, শসা, কমলালেবু, আমলা এবং তুলসীপাতা ডায়েটে রাখুন।

শরীরচর্চা: কিডনিকে সুস্থ রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম করুন।

বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ: যাঁদের আগে থেকেই কিডনির কোনও না কোনও ক্রনিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এই গরমে নিজের মনগড়া কোনো ডায়েট বা নিয়ম পালন করতে যাবেন না। চিকিৎসকের (Nephrologist) পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ এবং কঠোর খাদ্যবিধি মেনেই এই গ্রীষ্মকাল পার করুন।

 

POST A COMMENT
Advertisement