সাধারণ মাথাব্যথা আর মাইগ্রেনের পার্থক্য কী?`মাথাযন্ত্রণা অত্যন্ত কমন একটি সমস্যা। তবে সব ধরনের ব্যথা কিন্তু এক নয়। অনেকেই মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন। তবে সাধারণ মাথার ব্যথার সঙ্গে মাইগ্রেনের পার্থক্য চট করে চিহ্নিত করা সবসময় সহজ হয় না। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে যে মাথাযন্ত্রণা হয়, তা মূলত ‘টেনশন হেডেগ’ (Tension Headache)। অন্য দিকে, মাইগ্রেন স্রেফ সাধারণ মাথার ব্যথা নয়, এটি একটি স্নায়ুঘটিত ব্যাধি (Neurological Disorder)। ফলে এর সঠিক চিকিৎসা হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণ মাথাযন্ত্রণা ও মাইগ্রেনের উপসর্গ, কারণ এবং চিকিৎসা একেবারেই ভিন্ন। তাই এই দুটির ফারাক জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশদে জানতে কথা বলা হয়েছিল দিল্লির জিবি পন্ত হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ড. দলজিৎ সিংয়ের সঙ্গে।
ড. দলজিৎ জানালেন, সাধারণ মাথাযন্ত্রণা হলো মূলত টেনশন হেডেক। এতে মাথার দু’পাশে, কপালে এবং মাথার পিছনের অংশে ব্যথা অনুভূত হয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ব্যথা ঘাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যথার তীব্রতা কখনো হালকা, আবার কখনো তীব্র হতে পারে। তবে হাঁটাচলা করা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে সাধারণত এই ব্যথা বাড়ে না। তা ছাড়া সকালে ব্যথা বেশি এবং বিকেলে কম; এমন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেও এটি হয় না। সাধারণত মানসিক চাপ, ক্লান্তি, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, বসার ভুল ভঙ্গি কিংবা অনিদ্রার কারণে এই সাধারণ মাথাযন্ত্রণা হতে পারে। একটু বিশ্রাম নিলে কিংবা সাধারণ পেইনকিলার খেলেই এই ব্যথা সেরে যায়।
মাইগ্রেনের ব্যথা vs. সাধারণ মাথাযন্ত্রণা
ড. দলজিতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাইগ্রেন একেবারেই কোনো সাধারণ মাথাযন্ত্রণা নয়। এতে মাথার যেকোনো এক পাশে তীব্র ও দগদগে ব্যথা অনুভূত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথার পাশাপাশি বমি বমি ভাব, তীব্র আলো বা জোরালো শব্দে কষ্ট বাড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত হাঁটাচলা করলেও ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকলেও, অনিদ্রা বা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মাইগ্রেনের ব্যথা বা 'অ্যাটাক' শুরু হতে পারে। মাইগ্রেন কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। কারণ সঠিক চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা সারাজীবন ভোগাতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাথাযন্ত্রণা যদি ঘন ঘন হতে থাকে, ব্যথার তীব্রতা খুব বেশি হয়, প্রতিবার আগের চেয়ে ব্যথা বাড়তে থাকে কিংবা সাধারণ ওষুধ খেয়েও ব্যথা না কমে; তবে আর দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।