আজ থেকেই রোজ খান। সারাদিন কাজ করতে গিয়ে অনেকেরই ক্লান্ত লাগে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই শরীরে যেন এনার্জি থাকে না। একটু কাজ করলেই হাঁপিয়ে পড়েন অনেকে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি। শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পেট ভরালেই হবে না। খাবারে থাকতে হবে প্রোটিন, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজ। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই যে দামি খাবার, এমনটা নয়। আমাদের রান্নাঘরেই রয়েছে বেশ কিছু সস্তা এবং সহজলভ্য খাবার। নিয়মিত পাতে রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। বাড়তে পারে কর্মক্ষমতাও। জেনে নিন এমনই ৫ খাবারের কথা।
ডিম
ডিমকে সস্তায় পাওয়া অন্যতম ভালো প্রোটিনের উৎস বলা যায়। একটি ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ। সকালে সেদ্ধ ডিম খেতে পারেন। ভাতের সঙ্গেও ডিমের তরকারি রাখা যায়। শরীরচর্চা করেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও ডিম বেশ উপকারী খাবার হতে পারে। তাই সন্ধ্যায় সিঙাড়া, চপ, মুড়ি-চানাচুরের বদঅভ্যাস ছেড়ে বরং, একটি ডিম সেদ্ধ বা পোচ খান। খেতেও ভাল, উপকারও পাবেন।
ডাল
বাঙালির প্রতিদিনের খাবারে ডাল থাকেই। মুসুর, মুগ কিংবা ছোলার ডাল; সবেতেই রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। এর সঙ্গে পাওয়া যায় আয়রন, ফোলেট এবং বিভিন্ন খনিজ। তাই কম খরচে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ডাল হতে পারে ভালো বিকল্প। চেষ্টা করুন খোসা-সহ ডাল কেনার। এক রাত ভিজিয়ে রেখে পরের দিন রান্না করবেন।
চিনাবাদাম
কম দামে পাওয়া যায় চিনাবাদাম। এতে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ম্যাগনেশিয়াম এবং বিভিন্ন ভিটামিন। বিকেলের ক্ষুধায় বিস্কুট বা ভাজাভুজির বদলে ১৫-২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। তবে পরিমাণে বেশি না খাওয়াই ভাল। তাতে কিন্তু আবার ভুঁড়ি বাড়তে পারে।
কলা
এনার্জির জন্য খুব সহজ একটি খাবার হল কলা। বাজারে সারাবছরই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কলায় রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬। শরীরচর্চার আগে বা পরে একটি কলা খেতে পারেন।
শাকসবজি
সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খাওয়া জরুরি। পালং, লাল শাক বা অন্যান্য স্থানীয়, মরসুমি শাকে আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন এবং নানা খনিজ থাকে। খুব বেশি খরচ না করেই প্রতিদিনের খাবারে শাক রাখা যায়। খালি একটু ভাল করে ধুয়ে ও গরম জলে ফুটিয়ে খাবেন। তবে অতিরিক্ত রান্না করে গলিয়েও ফেলবেন না। তাতে উপকারিতা নষ্ট হয়।
শরীরে সারাদিন এনার্জি রাখতে শুধু একটি খাবারের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। ডিম, ডাল, চিনাবাদাম, কলা এবং শাকসবজির মতো খাবারের সঙ্গে ভাত বা রুটি, পর্যাপ্ত জল এবং সুষম খাবার রাখাও জরুরি। খাবারে বৈচিত্র থাকলে শরীর বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। কোনও নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি বা দীর্ঘদিনের দুর্বলতা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভাল।