কোভিড ১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা কত?ফের বাড়তে শুরু করেছে কোভিড কেস। দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। যার জেরে অন্ধ্রের স্বাস্থ্য দফতর হাই অ্যালার্টে রয়েছে।
এখনও দেশে কতজন আক্রান্ত?
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে দেশে মোট ৩৩৯টি কোভিড সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। সবচেয়ে বেশি কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে কেরলে। সেখানে ১১৫ জন আক্রান্ত এই ভাইরাসে। এছাড়া কর্নাটকে ৬৪টি, মহারাষ্ট্রে ৪৩টি, তামিলনাড়ুতে ৩৯টি, দিল্লিতে ১৮টি এবং রাজস্থানে ১২টি সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আবার আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ১৮ জন এবং অন্ধ্রতে আক্রান্ত ১২ জন।
অন্ধ্রের পরিস্থিতি খারাপ
২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাই-এর মধ্যে অন্ধ্রের বিভিন্ন জেলায় ১২ জনের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৪ জন হারিয়েছেন প্রাণ। মৃতদের মধ্যে ৩ জন রায়লসীমা অঞ্চলের কড়পা জেলার বাসিন্দা। আর চতুর্থ জন কাকিনাডা জেলার বাসিন্দা।
ওই রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সচিব জি. বীরপান্ডিয়ান ইতিমধ্যেই এই মৃত্যুগুলি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মৃত ৪ জনেরই আগে থেকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির অসুখের মতো কোমর্বিডিটি ছিল। তাই ভাইরাস তাঁদের শরীরকে সহজেই কাবু করেছে।
কড়পার এক রোগী ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি)-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, কাকিনাডায় মৃত একজন কিশোরী।
আক্রান্তদের থেকে গ্রহণ করা নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে। এই নমুনা থেকে পাওয়া ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হবে। তাতে কোভিডের কোন ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ ঘটেছে, সেটা বোঝা যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালের শুরুর দিকে ডেল্টা ও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে ভারতে কোভিডের একাধিক ওয়েভ এসেছিল। এরপর অবশ্য কমে যায় সংক্রমণ। করোনার মারণ কামড় কমতে থাকে। ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। বর্তমানে আক্রান্তদের তিন জন বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। দু'জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর তিন জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
জি. বীরপান্ডিয়ান ইন্ডিয়া টুডে-এর কাছে দাবি করেন, কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়া এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, 'সব হাসপাতালেই মাঝেমধ্যেই কোভিড আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। অন্ধ্রপ্রদেশে এখন আতঙ্কের কোনও পরিস্থিতি নেই।' পাশাপাশি তিনি জানান, মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
কিন্তু এই সময় সকলকেই মাস্ক পরা, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধুয়ে ফেলার মতো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্র: এটা একটি সাধারণ প্রতিবেদন। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।