রসগোল্লার পায়েস মিষ্টির সঙ্গে বাঙালির প্রেম যুগ যুগ ধরে সকলের জানা। তা যদি হয় রসগোল্লা, তাহলে তো কথাই নেই। রসগোল্লা শুধু মিষ্টি নয়, এটি যেন বাঙালির আবেগ। অন্যদিকে বাঙালির আরও এক প্রিয় মিষ্টি হল পায়েস। জন্মদিন হোক বা কোনও শুভ কাজে পায়েস 'মাস্ট'। আর এই দুই মিষ্টির মিলিত একটি পদ যদি সামনে থাকে, তাহলে তো আর কথাই নেই।
অনেকেই হয়তো ভাবেন রসগোল্লার পায়েস, রসমালাই আর ছানার পায়েস আদতে একই জিনিস। কিন্তু ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। জেনে নিন, রসগোল্লার পায়েস তৈরির সহজ পদ্ধতি।
উপকরণ
ছোট রসগোল্লা: ১০টি
ফুল ফ্যাট দুধ: ১ লিটার
চিনি: ৫ থেকে ৬ টেবিল চামচ (অথবা নিজের স্বাদ অনুযায়ী)
ছোট এলাচ: ২টি (থেঁতো করা)
পেস্তা বাদাম কুচি: সাজানোর জন্য
শুকনো গোলাপ পাপড়ি: সাজানোর জন্য
প্রণালী
১. প্রথমে একটি ভারী তলযুক্ত পাত্র নিন। পাত্রে দুধ ঢালার আগে সামান্য একটু জল বুলিয়ে নিন। এই ছোট্ট কৌশলের কারণে দুধ পাত্রের তলায় লেগে বা পুড়ে যাবে না।
২. এবার পাত্রে দুধ ঢেলে ফুটতে দিন। মাঝারি আঁচে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে তার আদি পরিমাণের তিন ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।
৩. দুধ ঘন হয়ে এলে তার মধ্যে থেঁতো করা ছোট এলাচ এবং চিনি দিয়ে দিন। আরও ৫ মিনিটের জন্য দুধ ফুটতে দিন।
৪. দুধ ফুটতে ফুটতেই রসগোল্লাগুলো হাতে নিয়ে আলতো করে চেপে তার ভেতরের চিনির রসটা বের করে নিন। খেয়াল রাখবেন যাতে রসগোল্লা ভেঙে না যায়।
৫. এবার রস নিংড়ে নেওয়া রসগোল্লাগুলো ফুটন্ত দুধের মধ্যে দিয়ে আরও মিনিট পাঁচেক জ্বাল দিন। এতে রসগোল্লাগুলোর ভেতরে দুধের মিষ্টি রস খুব ভালভাবে ঢুকে যাবে এবং একটা দারুণ স্বাদ তৈরি হবে। ব্যস, আপনার রান্না শেষ!
৬. এবার আঁচ বন্ধ করে পায়েসটিকে ঘরের তাপমাত্রায় পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন।
কীভাবে পরবেশন করবেন?
পায়েস ঠান্ডা হয়ে গেলে ওপর থেকে পেস্তা কুচি ও শুকনো গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন। পরিবেশনের আগে এই পায়েস কিছুক্ষণ ফ্রিজেও রেখে দিতে পারেন।
টিপস: রসগোল্লার পায়েস পরিবেশনের সময় খেয়াল রাখবেন, এটি যেন হালকা ঠান্ডা হয়, একদম কনকনে ঠান্ডা বা চিলড নয়।
আপনার পছন্দ হলে এই পায়েস হালকা গরম গরমও পরিবেশন করতে পারেন। ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া এক মুঠো কুচনো পেস্তা বাদাম এই পদের স্বাদ ও সৌন্দর্য- দুই-ই বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।