ফুলকপির পকোড়াজানলার বাইরে ঝিরঝির করে বৃষ্টি, আর টেবিলে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ আদা চা— এই আবহে যদি থালায় গরম গরম মুচমুচে পকোড়া না থাকে, তবে বর্ষার আমেজটাই যেন ঠিক জমে ওঠে না। রোজকার চেনা আলু বা পেঁয়াজির একঘেয়েমি কাটাতে এবার বিকেলের জলখাবারে বানিয়ে নিতে পারেন খাস্তা ফুলকপির পকোড়া।
অনেকেরই অভিযোগ থাকে, ফুলকপির পকোড়া ভাজলে হয় ভেতরের কপির টুকরো কাঁচা থেকে যায়, না হলে বাইরের বেসনের আস্তরণ বড্ড বেশি তেল চুষে নরম হয়ে যায়। তবে রান্নাঘরের ছোট একটি গোপন কৌশল জানা থাকলে, পকোড়া হবে বাইরে থেকে দারুণ মুচমুচে আর ভেতর থেকে নরম। রইল জিভে জল আনা ফুলকপির পকোড়ার পারফেক্ট রেসিপি।
উপকরণ:
ফুলকপি: ১টি মাঝারি মাপের (ছোট ছোট টুকরো করে কাটা)
বেসন: দেড় কাপ
চালের গুঁড়ো বা সুজি: ২-৩ বড় চামচ (পকোড়া অতিরিক্ত মুচমুচে করার আসল সিক্রেট)
আদা-রসুন বাটা: ১ ছোট চামচ
কাঁচা লঙ্কা কুচি: ২-৩টি
জোয়ান: আধ ছোট চামচ (হজমের সুবিধা ও চমৎকার গন্ধের জন্য)
হলুদ গুঁড়ো: এক চতুর্থাংশ ছোট চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো: ১ ছোট চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো: আধ ছোট চামচ
চাট মশলা: ১ ছোট চামচ (ওপর থেকে ছড়ানোর জন্য)
ধনেপাতা কুচি: সামান্য
নুন: স্বাদমতো
তেল: ভাজার জন্য
প্রস্তুত প্রণালী:
১. প্রথমে ফুলকপির টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে জল গরম বসিয়ে তাতে সামান্য নুন আর এক চিমটে হলুদ দিন। জল ফুটতে শুরু করলে কপির টুকরোগুলো দিয়ে মাত্র ২-৩ মিনিট ভাপিয়ে নিন। এতে কপির ভেতরে থাকা ময়লা বা পোকা থাকলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং কপিটি সামান্য নরম হবে। এরপর জল ছেঁকে নিয়ে টুকরোগুলো ভাল করে শুকিয়ে নিন।
২. একটি বড় পাত্রে বেসন, চালের গুঁড়ো (অথবা সুজি) নিন। এতে হাতের তালুতে সামান্য ঘষে নেওয়া জোয়ান, হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, গরম মশলা, আদা-রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা কুচি, ধনেপাতা কুচি এবং স্বাদমতো নুন মেশান। এবার অল্প অল্প করে জল দিয়ে একটি ঘন ও মসৃণ ব্যাটার বা গোলা তৈরি করুন। গোলাটি যেন খুব বেশি পাতলা বা অতিরিক্ত শক্ত না হয়, যাতে ফুলকপির গায়ে তা ভাল ভাবে লেগে থাকে।
৩. এবার জল শুকিয়ে নেওয়া ফুলকপির টুকরোগুলো এই বেসনের গোলায় দিয়ে হালকা হাতে মেখে নিন, যাতে মশলার মিশ্রণটি কপির প্রতিটি খাঁজে সমানভাবে পৌঁছে যায়।
৪. কড়াইতে ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল গরম করুন। তেল থেকে হালকা ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে গ্যাসের আঁচ মাঝারি করে দিন। এবার বেসনে ডোবানো ফুলকপির টুকরোগুলো একটা একটা করে সাবধানে গরম তেলে ছাড়ুন।
৫. পকোড়াগুলো মাঝারি আঁচে উল্টেপাল্টে সোনালী ও মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। আঁচ খুব বেশি বাড়িয়ে ভাজলে ওপরটা দ্রুত লাল হয়ে যাবে কিন্তু ভেতরের বেসন কাঁচা থেকে যাবে। তাই ধৈর্য ধরে মাঝারি আঁচে ভাজাই শ্রেয়।
৬. ভাজা হয়ে গেলে তেল ছেঁকে কিচেন টিস্যুর ওপর তুলে রাখুন, যাতে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। ওপর থেকে সামান্য চাট মশলা ছড়িয়ে দিয়ে গরম গরম আদা চা, ধনেপাতার চাটনি কিংবা টমেটো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন। মুষলধারে বৃষ্টির বিকেলে এই পকোড়ার কামড় পরিবারের সকলের মন ভালো করে দেবে নিশ্চিত।