চিকেন কিমা রেসিপিপুজোয় অফিসে থাকে টানা ছুটি। এই সময়টা অনেকেই ঘরে রান্নাবান্না করেন। নিজের হাতে রান্না তো করেন, অন্যকেও খাওয়ান বাঙালিরা। আর মাছ-মাংস ছাড়া তো জমেই না বাঙালির দুর্গাপুজো। আজ তাই আপনাদের জন্য রইল চিকেন কিমা তৈরির রেসিপি। বাড়িতেই অনায়াসে বানিয়ে নিতে পারেন এই পদ।
চিকেন দিয়ে একটু অন্য রকম কিছু বানানোর ইচ্ছে হলে বাড়িতেই ট্রাই করতে পারেন এই সহজ চিকেন কিমার রেসিপি। বেশি ঝামেলা ছাড়াই তৈরি করা যায় এই পদ। এই রেসিপি মেনে চললে কিমা হবে বেশ সুস্বাদু, ঝালঝাল এবং মশলাদার।
চিকেন কিমা বানাতে কী কী লাগবে?
বাড়িতে চিকেন কিমা তৈরি করতে লাগবে প্রায় ৫০০ গ্রাম মিহি করে পেষা চিকেন। সঙ্গে নিন দুটি মিহি করে কাটা পেঁয়াজ, দুটি টমেটো, এক চা চামচ আদা-রসুন বাটা, দুটি কাঁচালঙ্কা এবং সামান্য ধনেপাতা।
মশলার জন্য লাগবে জিরে, তেজপাতা, দারচিনি, লবঙ্গ এবং এলাচের মতো গোটা মশলা। এছাড়া হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, নুন এবং সামান্য গরমমশলা।
প্রথমে গোটা মশলা ভেজে নিন: কড়াইয়ে দু-তিন চামচ তেল গরম করুন। তাতে জিরে, তেজপাতা, দারচিনি, লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে দিন। গোটা মশলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে মিহি করে কাটা পেঁয়াজ দিয়ে দিন। পেঁয়াজ হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। পেঁয়াজ ভাজলে কিমার স্বাদ আরও ভাল হয়। তাই তাড়াহুড়ো না করাই ভাল।
এবার তৈরি করুন মশলা: পেঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে তাতে আদা-রসুন বাটা এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে দিন। প্রায় এক মিনিট ভাজার পর কুচিয়ে রাখা টমেটো দিন। এরপর হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো এবং নুন দিয়ে সব কিছু দিয়ে মিশিয়ে নিন। টমেটো নরম হয়ে যাবে। মশলা থেকে সামান্য তেল ছাড়তে শুরু করা পর্যন্ত রান্না করুন।
এবার দিন চিকেন কিমা: মশলা তৈরি হয়ে গেলে তাতে মিহি করে পেষা চিকেন দিয়ে দিন। মশলার সঙ্গে ভাল ভাবে মিশিয়ে নিন। খুন্তি দিয়ে নাড়তে থাকুন। এতে কিমা একসঙ্গে লেগে গিয়ে বড় বড় দলা পাকিয়ে যাবে না। এরপর কড়াই ঢেকে কম আঁচে রান্না হতে দিন। চিকেন নিজেই কিছুটা জল ছাড়বে। তাই শুরুতেই খুব বেশি জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কম আঁচে রান্না: ঢাকনা খুলে কিমা নেড়ে দিন। একটু ঝোলঝোলে কিমা পছন্দ হলে সামান্য গরম জল দিতে পারেন। আর শুকনো কিমা ভাল লাগলে ঢাকনা খুলে রান্না করুন, যতক্ষণ না অতিরিক্ত জল শুকিয়ে যায়। সবশেষে সামান্য গরমমশলা এবং কুচোনো ধনেপাতা দিয়ে দিন। আরও এক-দু মিনিট রান্না করে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
গরম গরম চিকেন কিমা রুটি, পরোটা, নান বা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন। উপর থেকে ধনেপাতা, মিহি করে কাটা পেঁয়াজ এবং সামান্য লেবুর রস ছড়িয়ে দিলে স্বাদ আরও বেড়ে যাবে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিমা একটু বেশি ঝাল বা হালকা ঝাল করে নিতে পারেন। ঝোল পছন্দ হলে একটু বেশি জল দিন। আর শুকনো কিমা ভাল লাগলে ভাল করে কষিয়ে জল শুকিয়ে নিন।