শীত কি এবার এগিয়ে আসছে? নাগাড়ে চলা ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টির পর চড়া রোদের মুখ দেখেছে রাজ্যবাসী। তার মধ্যেই আবার ঝপ করে তাপমাত্রা কমেছে রাতে। তবে কি এবার পুজোর পর থেকেই শীত শীত ভাব অনুভূত হতে শুরু করবে? আশায় বুক বাঁধছে বাংলার শীতপ্রেমীরা। কী বলছেন আবহাওয়াবিদরা?
রাতে ইদানিং আর টানা AC চালাতে হচ্ছে না। এটা কি আগাম শীতের ইঙ্গিত? ওদিকে, দিল্লিতে রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ২০০১ সালের পর ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। শুধু দিল্লি নয়, রাতের দিকে তাপমাত্রা আচমকাই কমছে উত্তর ভারত জুড়েই।
আগাম শীতের ইঙ্গিত নাকি কেবলই গরমের হাত থেকে সাময়িক বিরতি? এই পরিবর্তন সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা আবহাওয়া দফতরের? এর নেপথ্যে কি কোনওভাবে দায়ী এল নিনো?
না। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, না এটি আগাম শীতের ইঙ্গিত, আর না তো এল নিনোর প্রভাব। বরং এটি একটি নজিরবিহীন আবহাওয়ার পরিস্থিতি যার জেরে ভারতের সমস্ত প্রান্তেই বৃষ্টি চলেছে।
নাগাড়ে চলা বৃষ্টির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। মৌসম তক-এর প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্র ত্রিপাঠী ইন্ডিয়া টুডে-কে বলেন, 'বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ফেলেছে। এই সময়েই বর্ষা শেষের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা শক্তিশালী ছিল হিমালয় অঞ্চলে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমতল এবং সমতলের উপরিভাগে সামান্য উচ্চতাতেও ওয়েদার সিস্টেমগুলি সক্রিয় হতে পেরেছে।' তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ বৃষ্টিপাত বাড়িয়েছে ওড়িশা, অন্ধ্র, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে। উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, হরিয়ানা এবং রাজস্থানেও এই নিম্নচাপের কমবেশি প্রভাব পড়েছে।
ঘন মেঘ জমে থাকা, স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া এবং টানা বৃষ্টিপাত দিনের বেলায় তাপমাত্রা কমিয়েছে। নাগাড়ে চলা বৃষ্টি আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জন্য দায়ী থেকেছে। সব মিলিয়ে খানিকটা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব তৈরি হয়েছে রাতের বেলায়।
তবে আবহাওয়াবিদ জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতি কেবলমাত্রই গভীর নিম্নচাপ পরবর্তী অবস্থায়। এর সঙ্গে আগাম শীতের সম্পর্ক নেই।
তাপমাত্রা কি সেক্ষেত্রে আবার বাড়বে?
ওয়েদার সিস্টেম যেগুলি সক্রিয় ছিল, সবক'টিই দুর্বল হয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ঝোড়ো হাওয়ার বদলে শুকনো বাতাস বইতে শুরু করেছে। ফলে উত্তর ভারতে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর সূর্যের তেজ বাড়বে দেশজুড়েই। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার পারদ দিনের বেলায় চড়বে পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশে।
ঘন মেঘের আস্তরণ ধীরে ধীরে ফিকে হচ্ছে। শুকনো হাওয়া বইছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা আবারও বাড়বে এবং খটখটে রোদের দিন ফিরবে দেশজুড়েই।
ফের আসছে ঘূর্ণাবর্ত
তবে এর মাঝেই একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে মায়ানমারে। যা উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে এবং বেশ কিছুদিন প্রভাব বিস্তার করবে। যা পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। তবে আগের নিম্নচাপটির মতো এত বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকবে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং উত্তর-পূর্বে।
আগাম শীতের কোনও পূর্বাভাস রয়েছে?
উত্তর হল, না। আপাতত স্পষ্ট বার্তা আবহাওয়াবিদদের, দিল্লি সহ অন্যত্র রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয়, এবার শীত দ্রুত ঢুকবে। বর্তমান তাপমাত্রা পরিবর্তন সাময়িক এবং এর সঙ্গে এল নিনোরও কোনও সম্পর্ক নেই।