ঋজু দত্ত ফের বিস্ফোরক তৃণমূলের সাসপেন্ডেড নেতা ঋজু দত্ত। বাংলায় হারের জন্য আইপ্যাক, মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও নিচুস্তরের তৃণমূল নেতাদের দায়ী করলেন তিনি। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, ব্লক, জেলাস্তরের নেতারা হিন্দু মহিলাদের উপর মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অত্যাচার করেছে। তার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়েছে।
রবিবার ঋজু দত্ত বলেন, 'বাংলার মানুষ তৃণমূল বিরোধী ভোট দিয়েছে। তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যে ভোটই তৃণমূল পেয়েছে তা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় পেয়েছেন। অন্য কারও মুখ দেখে মানুষ ভোট দেয়নি। তৃণমূলের হারের প্রধান তিনটি কারণ আছে। প্রথম কারণ হল আইপ্যাক। গত ৬ মাস দলটা চালিয়েছে আইপ্যাক। অন্য রাজ্য থেকে লোক এসে আমাদের, বিধায়কদের,সাংসদদের শিখিয়েছিল কী করতে হবে। তারা আমাদের মেসেজ করে জানাত, কী বলতে হবে সভায়। শুভেন্দু অধিকারীর বাবাকে গালিগালাজ করতে বলা হত। '
টাকার বিনিময়ে টিকিট বিলি করা হত বলেও অভিযোগ করেন ঋজু। তাঁর অভিযোগ, ডেবরা থেকে তাঁকে প্রার্থী করার কথা হয়েছিল। বিনিময়ে চাওয়া হয়েছিল ৫০ লক্ষ টাকা। তাঁর কথায়, 'আমি প্রতীক জৈনর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। ডেবরা থেকে আমার টিকিট কনফার্ম হয়ে গিয়েছিল। ওঁর অফিসের নিচে অর্জুন নামে একজনের অফিস ছিল। সে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু ভয়ে আমি সেই কথা দলকেও জানাতে পারিনি। কারণ সবই তো আইপ্যাক চালাচ্ছিল। আমি কোনওদিন ভাবিনি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ব। আমি তো আর দল করে টাকা রোজগার করতাম না। একজন সাধারণ মানুষ মাত্র। অথচ আমার কাছে টাকা চাওয়া হল। আমি তাও মা ও বউকে বললাম। ওরা তো গয়না বেচে টাকা দিল। তবে আমি দেখলাম, এটা ঠিক হবে না। তাই গয়না ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।'
এরপরই মমতা ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন ঋজু। তিনি সাফ বলেন, 'এই হারের সব দায় নিতে হবে দিদি ও অভিষেককে। তাঁরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আইপ্যাক সব নিয়ন্ত্রণ করে নিল? তার জবাব দিতে হবে। ইডি যখন রেইড করল তখন তো দিদি ছুটে গেলেন। ফাইল নিয়ে এলেন। সেই কেস এখনও চলছে। একটু এদিক ওদিক হয়ে গেলেই জেলও হতে পারে দিদির।'
প্রতীক জৈনকেও আক্রমণ করেন ঋজু। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ আনেন। জানান,'প্রতীক জৈন তো পালিয়েছেন। উনি তৃণমূলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। বাজার থেকেও টাকা খেয়েছে আইপ্যাক। ধরা যাক একটা বিধানসভায় চারজন প্রার্থী হওয়ার দাবিদার। তাঁদের সবার কাছে টাকা নেওয়া হত। আইপ্যাককে চ্যালেঞ্জও করা যেত না। কারণ ওরাই তো দল চালাত। এভাবে দিদিকে অন্ধকারে রেখে দলকে শেষ করে দিল ওই সংস্থা। জেলায় আইপ্যাকের যারা দায়িত্বে ছিল তারা রিপোর্ট দেখিয়েছিল আমাকে। সেখানে অনেক সিটে ভোটের আগে থেকেই পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু সেই রিপোর্ট যখন অভিষেককে পাঠানো হচ্ছিল,সেখানে দেখানো হচ্ছিল আমরা এগিয়ে আছি। এইভাবে দলকে শেষ করা হয়েছে। এর দায়িত্ব তো মমতা ও অভিষেককে নিতে হবে।'
এরপরই দলের অন্দরে নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন ঋজু। তাঁর দাবি, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বার, জেলা সভাপতি, ব্লক সভাপতিরা সাধারণ মানুষে কাছে টাকা তুলেছে।
হিন্দু মহিলাদের দিনের পর দিন অত্যাচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ঋজু। জানান, মেয়েদের অসম্মান করা হয়েছে। তৃণমূল মনে করত, গ্রামের মহিলাদের সব ভোট তারা পাবে। অথচ বাস্তবে তা হয়নি। কারণ তৃণমূলের ছোটো নেতারা বছরের পর বছর গ্রামের হিন্দু মেয়েদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। তাঁর সংযোজন, 'মাত্র ১৫০০ টাকা দিয়ে মেয়েদের সম্মান কেনা যায় না। এটা বোঝা উচিত ছিল। বাংলার মেয়েরা এক সময় দিদিকে দু হাত তুলে আশীর্বাদ করেছিল। এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।'