সাইনবোর্ড কাণ্ড কী বলল হাইকোর্ট?তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সাইনবোর্ড খুলে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। যদিও পুরসভার এই অভিযানের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট মামলা করে তৃণমূল। তবে সেই আবেদনে আপাতত সাড়া দেয়নি আদালত। এই আবেদনে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের ওই সাইনবোর্ড কলকাতা পুরসভা একদিন আগেই খুলে দিয়েছে।
এছাড়া বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী তৃণমূলের আরও কয়েকটি আবেদনও খারিজ করে দেন। যেমন ওই সাইনবোর্ড আবার লাগানো, সাইনবোর্ড খোলার অভিযানে যুক্ত কেএমসি ও পুলিশের আধিকারিকদের নাম প্রকাশ এবং ওই বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পুরসভা কর্তৃপক্ষকে কোনও পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার মতো আবেদনও খারিজ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আদালত দু'পক্ষকেই নিজেদের বক্তব্য হলফনামার মাধ্যমে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তারপরই মামলাটির ফের শুনানি হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
ঠিক কী হয়েছে?
বৃহস্পতিবার অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সাইনবোর্ড খোলার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, অফিসের বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েকজন সমর্থক এবং দলের কিছু নেতা পুলিশ ও কেএমসি আধিকারিকদের বিল্ডিংয়ে ঢুকতে ও সাইনবোর্ড খুলতে বাধা দেয়।। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশ ও পুরকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে ক্যামাক স্ট্রিটের এই অফিস ছিল ক্ষমতার 'দ্বিতীয় ভরকেন্দ্র'। আর বিল্ডিংটির ঠিক উপরের তলায় রাস্তার দিকে মুখ করে থাকা একটি লোহার কাঠামোর উপর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক সহ ওই সাইনবোর্ডটি লাগানো ছিল। কেএমসি-এর মতে এই সাইনবোর্ড 'বেআইনি'। তাই পুলিশের সাহায্য নিয়ে কলকাত পুরসভার কর্মীরা সেটি খুলে দেয়।
এই অভিযান যখন চলছে, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের বাধা দেওয়ার খবরকে তিনি ‘ফেক নিউজ’ বলে দাবি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যদিও এই ঘটনায় পুলিশ এবং পুরসভার বিরুদ্ধে পাল্টা দাবি করেছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, এই অভিযানের সময় কোনও অর্ডার দেখাতে পারেনি পুরসভা। শুধু তাই নয়, পুলিশ বিজেপির কথা মতো এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, আইনি পথেই এর বিরুদ্ধে লড়াই হবে।