
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কানিমোঝির বৈঠকভারতে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলির পরিস্থিতি ভাল নয়। কোথায় অন্তর্দ্বন্দ্ব, কারও আবার দল ভেঙে গিয়ে দু টুকরো। এহেন পরিস্থিতিতেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির, ডিএমকে, শিবসেনা (UBT)-র মতো দলগুলি। যার নির্যাস, কলকাতায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে রূদ্ধদ্বার মিটিং হল ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাত্পর্যপূর্ণ ভাবে মমতার সঙ্গে বৈঠকের আগে শিবসেনা (UBT)-র নেতা উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন কানিমোঝি।
মমতার জোটবার্তা উত্সাহ দেখায়নি কংগ্রেস
এই বৈঠকগুলির নির্যাস কি তৃতীয় ফ্রন্টের দিকে এগোচ্ছে? ভারতের রাজনীতিতে তৃতীয় ফ্রন্টের নজির একাধিক রয়েছে। কিন্তু কখনওই এই ফ্রন্ট ভাল ফল করেনি। বিশেষ করে রাজ্যগুলিতে বিরোধিতা ও কেন্দ্রে সখ্য, এই দ্বিচারিতাই কাল হয়েছে বারবার। সম্প্রতি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে জোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস উত্সাহ দেখায়নি। আবার তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে ডিএমকে। তারা এখন বিজয়ের পার্টি TVK-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন ডিএমকে
বাদল অধিবেশনের আগে কানিমোঝি স্পিকারকে চিঠি লিখে আবেদন করেছিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁরা বসবেন না সংসদে। পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হোক। বিরোধীদের জোট INDIA bloc-এর মিটিংও জুন মাসে এড়িয়ে গিয়েছেন স্ট্যালিনের দল। অর্থাত্ INDIA bloc-এ অন্তর্কলহ স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু এখনও INDIA bloc-এ রয়েছেন। এমনকী বিধানসভা ভোটে হারের পরে দিল্লি সফরে গিয়ে INDIA bloc-এর মিটিংয়ে দেখা গিয়েছে মমতাকে। এমনকী রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মিটিংও করেছেন।

উদ্ধব ঠাকরে ও শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে উদ্ধব ঠাকরে ও শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কানিমোঝি। অর্থাত্ জাতীয় রাজনীতিতে একটি নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে জোট গড়তে তত্পর হচ্ছে DMK। সেই তৃতীয় জোটে কংগ্রেসকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। কারণ কংগ্রেসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেই আঞ্চলিক দলগুলির কাছে পৌঁছনোর যে পদক্ষেপ শুরু করেছে ডিএমকে, তাতে যা বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি ও কংগ্রেস বিরোধী একটি জোটের তোড়জোড়। এখন রাজনীতি তো সম্ভাবনার শিল্প। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের দূরত্ব ঘোচানোর যে চেষ্টা চালাচ্ছেন, তা থেকে কি আপাতত বিরত থাকবেন?
তৃতীয় ফ্রন্ট অথবা সোনার পাথর বাটি
ভারতে থার্ড ফ্রন্ট আইডিয়া নতুন নয়। অতীতেও বহুবার এই ধরনের জোট তৈরি হয়েছে। পরে ভেঙেও গিয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগেও ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র্যালি হয়েছিল। ব্রিগেডে বিরাট জনসভা। সেই ফ্রন্টে রাখা হয়নি কংগ্রেসকে। এই মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ২০টিরও বেশি দলের নেতানেত্রীরা হাতেহাত মিলিয়েছিলেন। ছিল বামেরাও।
২০১৩ সালেও কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে তৃতীয় বিকল্প জোটের চেষ্টা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ঠিক ৫ বছর পরে ২০১৯ সালেও তেলঙ্গানার তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী কেসি রাও একই ভাবে জোট গড়ার তোড়জোড় করেন। সব শেষে এই জোট টেকেনি। কালের গহ্বরে চলে গিয়েছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন আম আদমি পার্টি (AAP)-র প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিরোধী শাসিত সাতটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নৈশভোজে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রের সঙ্গে একই ধরনের বিভিন্ন ইস্যুতে সংঘাতে থাকা রাজ্যগুলিকে নিয়ে একটি ‘প্রগতিশীল রাজ্যগুলির গোষ্ঠী’ গড়ে তোলার ভাবনা ছিল তাঁর। তবে সেই উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বার কানিমোঝির উদ্যোগ। রাজনীতিতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মমতা কি ফের তৃতীয় ফ্রন্টের উদ্যোগে সামিল হবেন? নাকি কংগ্রেসের নেতৃত্বে INDIA জোটেই থাকবেন? সেটাই দেখার।