ফাইল ছবিগঙ্গার দু’পারের দুই জেলা হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার যোগাযোগ আরও দ্রুত ও বাধাহীন করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে এনএইচএআই। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর তৈরি হতে চলেছে ছয় লেনের একটি এলিভেটেড করিডর। দক্ষিণেশ্বর থেকে বিমানবন্দরের ২ নম্বর গেট পর্যন্ত বিস্তৃত এই ব্যস্ত রাস্তায় যানজট কমাতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনিক মহলের মতে, কলকাতা বিমানবন্দর, যশোর রোড, নিবেদিতা সেতু এবং জাতীয় সড়কের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে শহর ও শহরতলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি এই রাস্তা ব্যবহার করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েও। পাশাপাশি একাধিক সংযোগ রাস্তা থাকায় বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক সিগনাল বসাতে হয়েছে। ফলে এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতেই কোনা এক্সপ্রেসওয়ের আদলে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর এলিভেটেড করিডর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নিবেদিতা সেতু থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ও ভিআইপি রোডের মধ্যে যাতায়াতও আরও সহজ হবে।
গত ২২ মে দিল্লিতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। সেখানেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৭.৩৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অধীনে এবং বাকি অংশ পশ্চিমবঙ্গ হাইওয়ে ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বর্তমানে এই রাস্তায় যানজটের পাশাপাশি রাস্তার বেহাল দশা এবং বর্ষাকালে জল জমার সমস্যাও রয়েছে। ফলে নতুন এলিভেটেড করিডর নির্মাণের প্রস্তাবে রাজ্য প্রশাসনের তরফেও আগ্রহ দেখানো হয়েছে।
এদিকে, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলে ইতিমধ্যেই দু’টি উড়ালপুল তৈরির কাজ চলছে। সেখানে ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়ানো ছাড়াই যাতে গাড়ি চলাচল করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উড়ালপুলগুলি নির্মাণ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতের এলিভেটেড করিডরের সঙ্গে এই উড়ালপুলগুলিকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রকল্পের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। বর্তমান এক্সপ্রেসওয়ের জমির উপরেই প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডর তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও বৈঠকে জোকা থেকে পাঁচলা পর্যন্ত ‘টুইন টানেল’ নির্মাণ এবং কলকাতা রিং রোড প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।