শুভেন্দু অধিকারী।তৃণমূলের বিধায়কদের দলে ভাঙনের পর থেকেই অভিযোগ উঠেছিল, এর নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। বকলমে ঋতব্রত তৃণমূল 'বিজেপির বি টিম'। মমতা তৃণমূলের নেতানেত্রীরা তো অভিযোগ করেইছেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে শুভেন্দু অধিকারীর লোক। সেই অভিযোগেই কার্যত মানত্য দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! বুধবার বরানগরে চোরবাগান সর্বজনীনে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁর একটি বক্তব্য নিয়ে ছড়িয়েছে এমন জল্পনা। কী মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী?
চোরবাগানের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিরোধীদের কাঠগড়ায় নতুন বিজেপি সরকার। সিপিএম নেতৃত্ব কটাক্ষ করেছে, বামেদের বুকস্টল ভাঙাই সরকারের অগ্রাধিকার। মানুষের নিরাপত্তা নয়। সে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শুভেন্দু বলেন,'সোশ্যাল মিডিয়া না সন্ধে ৭টার টকশোর দৌলতে সজল ঘোষ জিতেছে? আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছি। টক শো এক বিজ্ঞ-জ্ঞানী তো বলেছিলেন, বিজেপি ১৫০ আসনে লড়ছে। বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। কাল বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে ২৭৫ জন সমর্থন দেবে'।
দুটি উপনির্বাচন জয়ের পর বিজেপির আসন সংখ্যা এখন ২০৯। তাহলে ২৭৫ জনের সমর্থনের কথা কীভাবে বলছেন শুভেন্দু অধিকারী? মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তা স্পষ্ট করেন। জানিয়ে দেন,'ওদের ৬৪ জনও আমার জন্য হাত তুলবে। সজল মজা দেখে তো ভিতরে'। এই ৬৪ বিধায়ক কাদের? বুঝতে অসুবিধা হাওয়ার কথা নেই, এই ৬৪ জন বিধায়ক হলেন ঋতব্রত তৃণমূলের। যা উহ্যই রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন চোরবাগানের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন,'ঘোষণা আর দড়ি ফেলে দেওয়াই হুড়োহুড়ির কারণ। প্যাণ্ডেলের ভিতরে ঘটনা ঘটেনি। বাইরে হয়েছে। ওদের ওখানে দড়ি দিয়ে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। তদন্তকারী দল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। কোনও অভিযোগ থাকলে সামনে আনব, ব্যবস্থাও নেব। আমরা ডিজের ব্যাপারে বলেছি সবাইকে। শিক্ষা নিয়ে সংশোধন করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। ১০ কোটির বেশি মানুষ পুজোয় যোগ দেন। এটা ছোটখাট বিষয় নয়। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা দরকার। ১ লক্ষে ১০৫ জন পুলিশ আছে বাংলায়। আগের সরকার ছিল সিভিক আর হোমগার্ড নির্ভর'।