শ্রীভূমির উদ্বোধনে কে আসছেন? 'অন্যবছর এতদিনে শ্রীভূমির পুজোয় লাইন পড়ে যেত...'। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এখন একটাই মিম। পালাবদলের রাজ্যে এবার জনপ্রিয় এই পুজোর উদ্বোধন হচ্ছে কবে? কার হাত ধরেই বা উদ্বোধন হবে শ্রীভূমির পুজোর?
কান পাত শোনা যাচ্ছে, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসতে পারেন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো উদ্বোধন করতে। সত্যিই কি তাই? পুজো কমিটির সভাপতি কনক দেবনাথ বলেন, 'প্রথম কথা আমরা পিতৃপক্ষে ঠাকুর উদ্বোধনের তীব্র বিরোধী। দেবীপক্ষে প্রতিমা উদ্বোধন করতে চাই। দ্বিতীয়া বা তৃতীয়ার দিন উদ্বোধন হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন, কার্তিক মহারাজ থাকবেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় থাকবেন। তবে অনেক বড় মাপের কোনও এক মানুষ আসতে পারেন। তবে যতক্ষণ না খেয়ে আঁচাচ্ছি, ততক্ষণ রাজনীতির লোকেরা কোনও কথা বলে না। বেফাঁস কথা বলে মানুষের কাছে লজ্জার কারণ হতে চাই না।' তাঁর সংযোজন, 'প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়নি, এইটুকু বলতে পারি। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন, এরকম কথা হয়েছিল। কিন্তু পাড়ার ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করছেন তাতে প্রাণ ভরবে না। তাই তাঁরা সকলেই মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উদ্বোধন চাইছেন। তবে বড় চমক থাকছেই।'
বদলের রাজ্যে বদলেছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোও। প্রতিবছর গা ভর্তি সোনার গয়নায় রাজকীয় সাজে দেখা যেত এই পুজোর প্রতিমাকে। কিন্তু এ বছর গয়না থাকছে না। সাবেকী প্রতিমাতেই পুজো হবে শ্রীভূমির 'হাওয়া মহল' মণ্ডপে। এ বিষয়ে কনক দেবনাথ বলেন, 'গয়নার জন্য যে নিরাপত্তা থাকত তাতে পাড়ার মানুষেরা মায়ের কাছে যেতে পারত না, অঞ্জলি দিতে পারত না। ওঁর (পড়ুন সুজিত বসুর) বাড়ির কিছু লোক, বন্ধুবান্ধব অঞ্জলি দিত। মা নিজেই সোনার তৈরি, সেই জায়গায় সোনার ভার আর মা-কে বহন করতে দিচ্ছি না। সাধারণ মানুষ যেন প্রাণ ভরে অঞ্জলি দিতে পারে, মায়ের পায়ে ফুল অর্পণ করতে পারে সেই কারণে সোনার গয়না এবার থাকছে না।'
শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, সুজিত বসুর আমলে শ্রীভূমির পুজো একটি অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিল। উদ্যোক্তারাও কি তাই মনে করছেন? পুজোর সভাপতির কথায়, 'একক কোনও ব্যক্তি কি কোনও কাজ করতে পারে? যে ছেলেটা চাঁদা তুলেছে, যে ব্যক্তি মায়ের মূর্তি আনার সময়ে ধরেছে, যে ছেলেটা হোর্ডিং লাগিয়েছে, তাঁদের কি অবদান নেই? একক ভাবে কোনওদিন সুজিত বসু এ কাজ করতে পারতেন না। শারদ্বতবাবু আমার নেতা, রাজ্যের মন্ত্রী, যদি কোনও কথা বলে থাকেন, তাহলে দায় এবং দায়িত্ব তাঁর। শ্রীভূমির মানুষেরা মনে করে না এমনটা। সুবীর চিন্টু, বাপি, রবিবাবু, বাবুয়া চট্টোপাধ্যায়ের মতো লোকেরা আছে বলেই আমি অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারছি। সুজিত বসুর পাশেও এরা অনেকেই ছিলেন।' কনক দেবনাথ আরও বলেন, 'ওঁর টাকা তোলার ক্যাপাসিটি ছিল। উনি বিশাল একটি হাঁড়ি রেখে গিয়েছেন। তবে সে হাঁড়ি যখন খুলি দেখি ভিতরে মাংস নেই।'
প্রতি বছরই শ্রীভূমির পুজো শুরু হওয়া মানেই VIP রোড জ্যাম। এ প্রসঙ্গে পুজোর সভাপতি বলছেন, 'ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এবং ওসি-র সঙ্গে বৈঠক এবং ১১ বার রেইকি হয়েছে। ৪২ জনের কমিটি তৈরি হয়েছে বাঙুর, শ্রীভূমি, লেকটাউন, দমদম পার্ক, দক্ষিণদাড়ি এলাকার জন্য। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলবে এই কমিটি। ৪টে ড্রোন সর্বক্ষণ নজরদারি চালাবে। পুজোর সামনেই ৩টি কন্ট্রোল রুম থাকবে। ৬ জন ডাক্তার ও ৬ জন নার্স সারারাত, সারাদিন থাকবে। গোটা মণ্ডপ চত্বরে থাকবে আড়াই হাজার পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ। আমরা কোনওমতেই VIP রোড জ্যাম করতে দেব না।'