ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধীদিল্লিতে যখন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা NCPI শিবির থেকে NDA, একাংশ আবার বিজেপি-তে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন, তখন রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক বিদ্রোহী শিবির, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস চাইল বিরোধীদের INDI জোটে যোগ দিতে।
INDI জোটে যোগ দিতে চায় ঋতব্রত শিবির
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই শিবিরই এখনও জোড়াফুল প্রতীক পায়নি। বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। এহেন সময়ে SIR ইস্যুতে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের INDI জোট নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই জোটে অন্যতম মুখ হয়েছেন, তখনই শর্তসাপেক্ষ অফার নিয়ে এগিয়ে এলেন ঋতব্রতরা। তাঁদের শর্ত হল, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দেওয়া হয়, তা হলে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস INDI জোটে যোগ দিতে তৈরি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে হবে, এটা শর্ত
গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ বিধায়ক আখরুজ্জামানের কথায়, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির বিজেপি-র বি টিম। যখনই কোনও বিতর্কিত বিল সংসদে এসেছে বা বিল পাস করাতে সঙ্কট দেখা দিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস হয় চুপ থেকেছে না হলে ওয়াক আউট করেছে, যাতে বিল পাসের পথ প্রশস্ত হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়, উনি বিরোধী জোটকে টুকরো করে রাহুল গান্ধীকে ক্রমাগত আক্রমণ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে রাহুল গান্ধীকে প্রচার করতে দেননি। যখনই বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার হয়েছে, তখনই উনি জোট থেকে পিছিয়ে এসেছেন। ভারতের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দ্বিচারিতা জানে।'
এরপরেই তিনি I.N.D.I.A জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তিনি শর্ত দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করলে, তাঁরা INDI জোটে যোগ দিতে তৈরি। আখরুজ্জামানের কথায়, 'যদি বিজেপির বিরুদ্ধে সত্যিকারের লড়াইয়ের লক্ষ্য থাকে, তা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোটের বাইরে রাখতে হবে। জোটের নেতৃত্ব যদি তাঁকে সরিয়ে দেয়, তা হলে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস জোটে যোগ দিয়ে তাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তুত।'
নন্দীগ্রামে মমতা দাঁড়ালে প্রচার করতে চেয়েছিলেন
বস্তুত, এই আখরুজ্জামানই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার আগে দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রামে দাঁড়ান, তা হলে তাঁরা মমতার জন্য নন্দীগ্রামে প্রচার করবেন। মদন মিত্র সহ ঋতব্রত শিবিরের একাধিক নেতা এই দাবি করেছিলেন। এখন সেই আখরুজ্জামানই ইন্ডি জোটে মমতাকে চাইছেন না।