দক্ষিণবঙ্গে টানা সাত দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোন জেলায় কবে ভারী বর্ষণ? জেনে নিন

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণের সময় নিরাপদ পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিতে হবে। গাছের নিচে, বিদ্যুতের খুঁটির পাশে বা জলাশয়ের ধারে দাঁড়ানো বিপজ্জনক হতে পারে।

Advertisement
দক্ষিণবঙ্গে টানা সাত দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোন জেলায় কবে ভারী বর্ষণ? জেনে নিন  টানা সাতদিন বৃষ্টি হবে
হাইলাইটস
  • কলকাতার ক্ষেত্রে আগামী এক সপ্তাহই আকাশ প্রধানত মেঘলা থাকবে
  • প্রায় প্রতিদিনই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে

দক্ষিণবঙ্গে আগামী সাত দিনই বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতাসহ প্রায় সমস্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে কয়েকটি জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া একাধিক দিন ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। 

রবিবার দুপুর থেকে কার্যকর হওয়া সাত দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া- দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই আগামী সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দু'দিন বহু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ দিনে অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি আরও বিস্তৃত আকারে হতে পারে। সপ্তম দিনে আবার বহু এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। 

কলকাতার ক্ষেত্রে আগামী এক সপ্তাহই আকাশ প্রধানত মেঘলা থাকবে। প্রায় প্রতিদিনই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। যদিও কলকাতার জন্য ভারী বৃষ্টির আলাদা সতর্কতা নেই, তবুও স্বল্প সময়ে প্রবল বর্ষণের কারণে জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 

হাওড়াতেও কলকাতার মতোই আবহাওয়ার চিত্র দেখা যাবে। সপ্তাহের শুরুতে এবং মাঝামাঝি সময়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হুগলিতে প্রথম দিনই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনায় প্রথম দিন এবং পঞ্চম দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

উপকূল সংলগ্ন পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ষষ্ঠ দিনে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি ঝাড়গ্রামেও দেখা যেতে পারে। ফলে নদী-খাল সংলগ্ন নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় সপ্তাহের প্রথম চার দিনই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ষষ্ঠ দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিকাজ এবং খোলা মাঠে কাজ করা মানুষদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শও রয়েছে। 

পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়াতেও আগামী সাত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পাশাপাশি একাধিক দিনে বজ্রপাত ও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে কৃষিজমি, কাঁচা বাড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটির আশপাশে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। 

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণের সময় নিরাপদ পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিতে হবে। গাছের নিচে, বিদ্যুতের খুঁটির পাশে বা জলাশয়ের ধারে দাঁড়ানো বিপজ্জনক হতে পারে। খোলা মাঠে কাজ করলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। 

তবে সমুদ্র উপকূলের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে মৎস্যজীবীদের জন্য কোনও সতর্কতা নেই। বন্দরেও কোনও সতর্ক সংকেত জারি করা হয়নি। উপকূলে সোয়েল সার্জ বা অস্বাভাবিক ঢেউয়েরও কোনও সতর্কতা নেই। 

 

POST A COMMENT
Advertisement