অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। বড় ঘোষণা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে চাপালেন কিছু শর্তও। শনিবার নিজের আমতলার পার্টি অফিস ভাঙা নিয়ে প্রবল ক্ষোভও উগরে দেন।
অভিষেক বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের চ্যালেঞ্জ করে বলেন, "যদি অভিষেকের সঙ্গে তাঁদের কোনও সমস্যা থেকে থাকে, আর সেটাই তাঁদের বিদ্রোহের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে আসেন, তবে আমি এক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করব। ওপেন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। অভিষেকই যদি সকলের টার্গেট হয়, তবে তাঁরা ফিরে আসুক, আমি পদত্যাগ করব।"
শনিবার সকালে অভিষেকের আমতলার পার্টি অফিসে চলে বুলডোজার। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাঁচ তলা পার্টি অফিস। জেলা প্রশাসনের তরফে জোড়া নোটিস দিলেও এই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে কোনও হেলদোল করেনি তৃণমূল, বলে দাবি করা হয়। এরই জবাবে অভিষেক বলেন, "যারা আনন্দে মেতেছেন পার্টি অফিস ভাঙা হয়েছে বলে। গত ১৫ তারিখ শুনানি ছিল, আমাদের প্রতিনিধিরা গিয়েছিল। কীসের ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে তার কপি চাওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসন তা দিতে পারেনি। দু'দিনের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। সেখানে বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তাণ্ডবলীলা চালালো। আমরা হাইকোর্টে মামলা করব, সুপ্রিম কোর্ট অবদি যাব। বিজেপির নেতারা কিন্তু বাঁচবেন না।"
অভিষেকের আরও হুঁশিয়ারি, "এই অফিসটি জায়গা কিনে বানানো হয়েছে। বৈধ নথি আছে। কোনও সরকারি জায়গায় তো অফিস নয়। সব নথি আমরা হাইকোর্টে জমা দেব। তারপরও পার্টি অফিস ভাঙা হয়েছে। সব ক্রিয়ার একচি প্রতিক্রিয়া আছে। যে অত্যাচার করছেন, সব অত্যাচার সুদ সহ ফেরত দেব ২০৩১-এ।"
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। জেলা প্রশাসনের দাবি, এই কার্যালয়টি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনও নথি ছাড়া এই কার্যালয়টি তৈরি হয়। কার্যালয়ের নির্মাণের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। যে কারণে বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নামানো হয়েছে পুলিশ ব়্যাফ। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ডায়মন্ড হারবারের কোনও সভা হলে এই কার্যালয়ে তা করা হত। তৃণমূলের তরফে আয়োজন করা হত।