মমতার চোটের পুরো কাহিনি।সালটা ২০২১। ঠিক ৫ বছর আগে। উপলক্ষ বিধানসভা নির্বাচন। নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগল। গোটা ভোটপ্রচারে তিনি ঘুরলেন হুইলচেয়ারে। মনে না থাকলে এই প্রতিবেদনের থাম্বনেলের ছবিটা দেখে নিতে পারেন। সেই ঘটনা আবারও ফিরে এল রাজ্য রাজনীতিতে। নতুন করে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁর অভিযোগ, পায়ের চোটের ঘটনা নিয়ে মমতা ভুল প্রচার করেছিলেন। একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখিয়ে তাঁর দাবি, পায়ে ফ্র্যাকচারের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। ৯ অক্টোবর ভোটগণনা। সে কারণে আদর্শ আচরণবিধি রয়েছে। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে এ দিন শুভেন্দু বলেন,'সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই মিথ্যা প্রচারের তদন্ত করা হবে। ২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী গোটা নন্দীগ্রামকে অপমান করেছিলেন। বলা হয়েছিল, তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে ১১.০৩.২০২১ তারিখের বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের রিপোর্ট রয়েছে। সেখানে পায়ে ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের কোনও প্রমাণ নেই'।
শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতালটি ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার আওতায় পড়ায় তিনি হাসপাতালের কমিটির সভাপতি। এক্স রে প্লেট রোগীর হাতে তুলে দেওয়া হলেও রিপোর্টের একটি কপি হাসপাতালের কাছে থেকে যায়। সেই রিপোর্টই এসেছে তাঁর হাতে। লেখা রয়েছে নো ফ্র্যাকচার।
২০২১ সালে ঠিক কী ঘটেছিল?
২০২১ সালের ১০ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ার রেয়াপাড়ায় চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় গাড়ির ফুটবোর্ডে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় চার-পাঁচ জন তাঁর গাড়ির দরজা জোরে বন্ধ করে দেয়।
পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় মমতা জানিয়েছিলেন, বিপুল ভিড় তাঁর গাড়ির কাছে চলে এসেছিল। সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পা চাপে পড়ে চোট লাগে।
ঘটনার পর মমতা ভর্তি হন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর হাড়ের চোটের কথা জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি ডান কাঁধ, হাত এবং ঘাড়েও চোট লেগেছে বলা হয়।
সেই সময় এসএসকেএমের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন,মমতার বাঁ পায়ে হাড়ের চোট ও সফট টিস্যু ও লিগামেন্টে চোট। পরবর্তী পরীক্ষায় বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর বোন ইনজুরির কথাও জানানো হয়।
১২ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মমতা। তাঁর বাঁ পায়ে প্লাস্টার ছিল। পরবর্তী নির্বাচনী প্রচার সারেন হুইলচেয়ারেই।
হাসপাতালের রিপোর্ট কী বলছে?
বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ১১ মার্চের বাঙুর ইনস্টিটিউটের রিপোর্টে ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের উল্লেখ না থাকা। পরবর্তী চিকিৎসা নথিতে হাড় ও লিগামেন্টে চোটের কথা রয়েছে। প্রশ্ন হল, কেন এই ফারাক? রিপোর্ট দেখিয়ে তদন্তের কথা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।