ঋতব্রত, সন্দীপনকে বহিষ্কার ইস্যুতে শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানালেন কুণাল, কেন?

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এরপরেই এই দুই বিধায়ককে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

Advertisement
ঋতব্রত, সন্দীপনকে বহিষ্কার ইস্যুতে শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানালেন কুণাল, কেন?TMC-এর দুই বিধায়ককে বহিষ্কার ইস্যুতে মুখ খুললেন কুণাল
হাইলাইটস
  • ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
  • এই দুই বিধায়ককে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
  • দল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক।

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে  ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এরপরেই এই দুই বিধায়ককে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য রাখার পাশাপাশি, সাংবাদিকদের সামনে এসেও দল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক।

সোমবার বিধানসভার বাইরে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, "এটা কত বড় বিশ্বাসঘাতকতা! দলের সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারকে জানিয়েছেন। দলের মধ্যে যদি সমস্যা থাকে, তাহলে সেটা আগে দলকে বলা উচিত ছিল। দলনেত্রীকে জানানো উচিত ছিল।"

কুণাল ঘোষের বক্তব্য, "TMC-এর হয়ে জেতার পর এবার সরকারের পক্ষে কথা বলছেন তাঁরা। দল যদি এতটাই খারাপ হয় তাহলে তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে দাঁড়ালেন কেন? মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে লড়লেন কেন?"

এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "উনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। এরজন্য  শুভেন্দুকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এদেরকে কেউ বিশ্বাস করবেন না। যারা বিধানসভায় পাঠাল, তাঁদের প্রতি এতবড় বিশ্বাসঘাতকতা। মানুষ এর বিচার করবে।" কুণাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা দলের ভেতরে আলোচনা করা উচিত। দলের প্রতীক ব্যবহার করে বিধায়ক হওয়ার পর গোপন আঁতাত বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলানোকে তিনি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন।

পাশাপাশি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কুণাল ঘোষ লেখেন, 'আমার অবস্থান স্পষ্ট করে আবার বলি। তৃণমূল কংগ্রেস করি। নেতৃত্বের প্রতি আমার বহু অভিযোগ, রাগ, যন্ত্রণা ছিল এবং আছে। দলের কিছু কাজ, কিছু নেতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ অপরিণত আচরণ, লোক চেনার ভুল, অভিজ্ঞ যোগ্য কর্মীদের গুরুত্বহীন করার আমি বিরোধী। আমি স্তাবক, সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে। ব্যক্তি স্বার্থান্বেষীদের পছন্দ করি না। আমার জীবন অপবাদে ধ্বংস করতে গেছিল এদের কেউ কেউ। জ্ঞানত কোনো অপরাধ করিনি। তখন তো আজকের বিপ্লবীরা কেউ মুখ খোলেনি। তবু, আমি দলের সৈনিক থেকে গেছি।' 

Advertisement

তিনি আরও লেখেন, "এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা?? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা। দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না হলে তারপর দেখা যাবে। তার আগেই 'ভালো' সাজার এত চেষ্টা? অনেকের এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই তো??? যাঁরা দলের কাছ থেকে বহু দায়িত্ব, পদ, ক্ষমতা এতদিন পেয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ক'জন আজ সামনে আছেন? বাকিরা কোথায়? দলের ভালোর সময়ে ক্ষমতা, ছবি, সেলফি; আর খারাপ সময়ে হাঁটু কাঁপছে???? ভয়??? আপনি বিরোধী বিধায়ক হতে ভয়??? সরকারপক্ষে থাকলে সাহসী?? দলের তরফে বিধায়ক হওয়ার পর দলের বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে দলকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ? এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা!!! কর্মীরা বিচার করবেন। দল আবার ঢেলে সাজাবেন নেত্রী। একটু অপেক্ষা করা গেল না?"

 

POST A COMMENT
Advertisement