শহরে ১৬৩ ধারা জারি করল পুলিশ
চোরবাগানের বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গত, শনিবার মানুষের ঢল নেমেছিল চোরবাগানে। সেই সময়ই হঠাৎ বৃষ্টি নামে। তারপর একটি ঘোষণা। তাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়়ি পড়ে যা বলে খবর। আগামী দিনে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় তারজন্য শহরের একাধিক এলাকায় বিএনএসের ১৬৩ নম্বর ধারা জারি করেছে পুলিশ। যার অর্থ, সেখানে যাওয়া বা জমায়েত করা আপাতত নিষিদ্ধ।
কোথায় কোথায় ১৬৩ ধারা জারি?
রবিবার সকালে বৌবাজার থানা এলাকার বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে জারি হয়েছে ১৬৩ ধারা (আগে যা ছিল ১৪৪ ধারা)। মূলত চোরবাগান সর্বজনীনকে ঘিরে যে সমস্ত এলাকা, সেখানেই এই ধারা বলবৎ করা হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা রবিবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। আগামী তিন দিন অর্থাৎ সপ্তমী-অষ্টমী-নবমী এই বিধি বলবৎ থাকবে।
কোন কোন রাস্তায় ১৬৩ ধারা জারি?
১৮ অক্টোবর অর্থাৎ আজ রবিবার থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬৩ ধারা থাকবে—
কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে?
১৬৩ ধারা জারি এলাকায় কোনও বেআইনি জমায়েত চলবে না। অর্থাৎ একসঙ্গে ৫ জনের বেশি মানুষ যেতে পারবেন না। লাঠি বা এমন কিছু সঙ্গে রাখা যাবে না, যাতে আইনি পরিস্থিতি নষ্ট হয়, শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়।
কলকাতার পুলিশ কমিশনারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, কলুটোলা স্ট্রিটের কলেজ স্ট্রিট থেকে সিআর অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ইডেন হাসপাতাল রোডের সিআর অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত অংশে এই কড়াকড়ি জারি থাকবে। বস্তুত, এই এলাকাটি চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের থেকে খুব বেশি দূরে নয়। যদিও পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে চোরবাগান সংক্রান্ত কোনও বিষয়ের উল্লেখ নেই। এই ধরা জারি থাকবে ২০ তারিখ পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, পুলিশ কমিশনার জমায়েতে নিষেধাজ্ঞার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, তাতে বলা হয়েছে— শান্তিভঙ্গ হওয়া সম্ভবনা ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ১৬৩ ধারা জারি হওয়া নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি লোকের বেআইনি জমায়েত, লাঠি বা কোনও অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গোটা বউবাজার থানা এলাকার ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞপ্তি প্রযোজ্য নয়।