চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত বেড়ে ১৯মুহূর্তে পুজোর আনন্দ বদলে গিয়েছে বিষাদে। শনিবার রাতে চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৯। হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় রয়েছেন আরও ২৪ জন। ঘটনায় কলকাতা শহর তো বটেই, রাজ্যজুড়েই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এর আগে কলকাতায় একেবারে পুজোর মধ্যে মণ্ডপের ভিড়ের কারণে এমন পদপিষ্ট হয়ে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ফলে এই দুর্ঘটনার দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
খবর পেয়ে রাতেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাতেই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। চোরবাগানের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সপ্তমী (দ্বিতীয়)র দিনে বাংলায় কর্মসূচি স্থগিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। এক্সে শাহ লেখেন, 'চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে একাধিক মানুষের হতাহতের অত্যন্ত দুঃখজনক খবর পেয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে আগামিকালের আমার সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত করে আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে যাব। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সমস্ত আহত ব্যক্তি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন'।
চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার পরে ৭ জন আইপিএস অফিসারকে কলকাতার দুর্গাপুজোর দায়িত্বে আনার নির্দেশ দিল নবান্ন। এর মধ্যে দু’জন আইজি পদমর্যাদার আধিকারিক রয়েছেন, দু’জন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার একদিন পর মুখ খুলল চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি দিয়েছে পুজো কমিটি। যেখানে শুধুমাত্র শোকবার্তা জানানো হয়েছে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এই বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, গাফিলতি কার, কী কারণে এমনটা ঘটল এসব কিছুই উল্লেখ নেই।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের ডিউরেশন কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেমন হলে বন্ধও করা হতে পারে। এক্সিট গেটে কোনও ফুডস্টল রাখা যাবে না। পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। কলেজ স্কোয়্যার এবং হাতিবাগান সর্বজনীনে VIP পাস বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টালা প্রত্যয়ে পুজো মণ্ডপের ভিতরে আলো বাড়াতে হবে।
1. অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮), বিহারের বাসিন্দা
2. শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬), বৈদ্যবাটির বাসিন্দা
3. মিঠু মণ্ডল (৪৫), শ্যামপুকুরের বাসিন্দা
4. আকৃতি কুমারী (১৭), বাটানগর, বালির বাসিন্দা
5. বর্ণালী হালদার (১৭) নিউটাউনের বাসিন্দা
6. শুভম সোনকর (৩৩) মানিকতলার বাসিন্দা
7. আরতি সরকার বিশ্বাস (৪৫), চাকদা
8. তাগর ভেজ (৩৭), পূর্ব বর্ধমান
9. তানিয়া বিশ্বাস (১৮), নিউটাউন
10. কল্পনা জানা (৪৬), পানিহাটি
11. বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), হাওড়া
12. স্নেহা ভাণ্ডারী (২০), বাঁকরাহাট, বিষ্ণুপুর
13. সন্দীপ ভেজ (১৪), পূর্ব বর্ধমান
14. পিয়ালি প্রামাণিক (২৫), আরামবাগ
15. প্রিয়া সামাদ্দার (১৮), নিউ ব্য়ারাকপুর
16. দিলীপ ঘোষ (৫৯), বরানগর
17. প্রাঞ্জল সরকার (১৩), আগরপাড়া
18. অয়নস কুমার শ্রীবাস্তব (), বিহার
19. দীপালি ঘোষ (৫৪), বরানগর
চোরবাগানের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ২০ এবং ২১ তারিখে অধিকাংশের বাড়ি যাবেন। ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে যাঁদের বাড়ি তাঁদের ওখানে গাড়িতে সড়কপথে যাবেন। দূরে হলে হেলিকপ্টারে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তিনি নিজে হাতে নিহতদের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ তুলে দেবেন।
চোরবাগানে প্রাণ হারান মানুষদের দেহ হস্তান্তর শুরু হল। পুলিশ মর্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী , স্বাস্থ্য প্রতি মন্ত্রী ও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত রয়েছেন।
চোরবাগানের ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে একাধিক ব্যক্তি আহত। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন ভর্তি রয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতালে। তাঁদের দেখতে রবিবার পৌঁছন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন জেনারেল বেডে রয়েছেন। বাকিরা CCU-তে ভর্তি। ২ জনের অবস্থা গুরুতর, ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অমিত শাহ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এর আগে এদিন সকালে আহতদের দেখতে এসেছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি।
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। মৃতদেহের পোস্টমর্টেম শুরু হল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। আন্ডার ভিডিও পোস্টমর্টেম হবে। ৪ জন অটোপসি সার্জেন থাকবেন।
চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় ঠাকুর দেখতে এসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের। সেই ঘটনায় মোট ১৪ জনকে আটক করেছিল কলকাতা পুলিশ। এবার তাঁদের মধ্যে থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুজো কমিটির সেক্রেটারি, ভাইস প্রেসিডেন্টও।
কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় NMO গভীর শোক, বেদনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। NMO এর প্রতিনিধিরা অতিদ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও তাঁদের পরিজনদের পাশে দাঁড়াতে NMO-র পক্ষ থেকে একটি সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনায় NMO-এর হেল্প ডেস্কের অন্যতম সদস্য ডাঃ সৌরভ মণ্ডল বলেন, 'এমন বড় একটি পদপিষ্টের ঘটনার পরেও, সরকার খুব ভালো ভাবে গোটা বিষয়টি সামাল দিয়েছে। আমরা সারা রাত ওখানে ছিলাম। রোগী পরিজনদের সাহায্য করেছি। অধিকাংশ রোগীকেই ইএম বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় ঠাকুর দেখতে এসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের। ঘটনায় FIR দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। আটক করা হয়েছে ১৪ জনকে। সূত্রের দবি, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে বেসরকারি সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা কর্মী, পুজোর আয়োজকদের কয়েকজন এবং ভলান্টিয়াররা।
চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের। জখম আরও ২৫। সূত্রের খবর, জখমদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্থানান্তর করিয়ে ইএম বাইপাসের কাছে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাড়ার সময় তাঁদের অবস্থা ছিল স্থিতিশীল।
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন NMO-এর সভাপতি ডাঃ রুদ্রনীল নন্দী। তিনি বলেন, "ঘটনাটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, মর্মান্তিক। কাল সারারাত ধরে আমরা কাজ করেছি। আমরা একটা সংঘ তৈরি করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব, ওখানে যারা আছেন তাদেরকে হেল্প করার। একটা এমার্জেন্সি টিম রয়েছে। কিন্তু পুজোতে, উৎসবে আনন্দ করতে এসে এইভাবে চলে যাওয়া, শোকজ্ঞাপনের কোনো ভাষা নেই। অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সরকার তো কাজ শুরু করেইছে। কেন এমন হয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।" কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের NMO-এর হেল্প ডেস্কের অন্যতম সদস্য ডাঃ সৌরভ মণ্ডল বলেন, 'এমন বড় একটি পদপিষ্টের ঘটনার পরেও, সরকার খুব ভালো ভাবে গোটা বিষয়টি সামাল দিয়েছে। আমরা সারা রাত ওখানে ছিলাম। রোগী পরিজনদের সাহায্য করেছি। অধিকাংশ রোগীকেই ইএম বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
কলকাতার চোরবাগান প্যান্ডেলে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় শনিবার রাতে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। রবিবার সকাল থেকেই প্যান্ডেলের আশেপাশে দেখা গেল দুর্ভেদ্য পুলিশি নিরাপত্তা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চোরবাগান দুর্গাপূজা প্যান্ডেল ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করে বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এই খবরে গভীর শোক ও একই সঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স, পশ্চিমবঙ্গ।
কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এবার সেই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। এক্স বার্তায় তিনি বলেন, "কলকাতায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথ যেন মৃতদের আত্মাদের চিরশান্তি দান করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য দান করেন।"
চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের। ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য ও প্রতিটি পরিবারে একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে শনিবার রাতে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরে শনিবার রাতেই পুলিশ চোরবাগান পুজোর আয়োজকসহ মোট ১২ জনকে আটক করল।