কলকাতায় গণেশ পুজোর থিমে TMC vs BJP আমলবাঙালি পুজো করবে, আর তাতে শিল্প থাকবে না, ভাবনা থাকবে না, তাই আবার হয় নাকি। কলকাতার বাগুইআটিতে একটি গণেশ পুজোতেও দেখা গেল এমনই ভাবনা ও শিল্পকলার পরিচয়। পুজোর থিমে বাংলার রাজনীতি ফুটিয়ে তুললেন পুজো উদ্যোক্তারা। গণেশ পুজোর থিম রাখা হয়েছে বাংলায় ৪ মে'র আগের আমল ও ৪ মে-র পরের আমল। এই ৪ মে'তেই ভোটের ফল বেরিয়েছিল বাংলায়। তাই সোজা ও স্পষ্ট ভাষায় বললে পুজোয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে TMC ও BJP-র আমল। উদ্যোক্তাদের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তন কীভাবে হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়।
একটি আবাসন কমপ্লেক্সে ৬ দিন ধরে এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে ১১ ফুটের গণেশ মূর্তি। রাজকীয় সাজে সজ্জিত গণেশের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের থ্রি-ডি দেওয়ালচিত্র। এই দেওয়ালের ছবিতেই ‘৪ মে-র আগে’ এবং ‘৪ মে-র পরে’—এই দুই ভাগে বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে।
এক উদ্যোক্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘৪ মে-র আগে’ অংশে লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিশৃঙ্খলা, ২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ডের পর ‘জাস্টিস ফর অভয়া’ আন্দোলন, বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়া এবং গরু পাচারের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘৪ মে-র পরে’ অংশে প্রস্তাবিত নয়াদিল্লি-নিউ জলপাইগুড়ি বুলেট ট্রেন, চিংড়িঘাটায় দীর্ঘদিনের মেট্রোর ফাঁক পূরণ, নতুন শিল্পের সূচনা এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযানের মতো বিষয় দেখানো হয়েছে।
‘পরিবর্তন – ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সঙ্গে উন্নত বাংলার পথে’ এই নামের থিমের পিছনে থাকা উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এই থিমের মাধ্যমে আরও উন্নত, শিল্পসমৃদ্ধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকা বাংলার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
রবিবার এই গণেশ পুজোর উদ্বোধনে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি-সহ অন্য বিশিষ্টবর্গরা।জানা গিয়েছে, শিল্পী মিন্টু পালের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এই বিশেষ থিম ও পুজো। উদ্যোক্তাদের দাবি, সাদা কুর্তা ও গেরুয়া পাগড়িতে সজ্জিত গণেশমূর্তির মাধ্যমে জ্ঞান, দায়িত্ববোধ, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সুশাসনের প্রতীকী বার্তা দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে বাংলার উন্নয়নের বার্তা মিলিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।