দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে ৩ যুদ্ধজাহাজসমুদ্রে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমাগত তাদের নৌবহরে দেশীয় যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করছে। নৌবাহিনী একের পর এক আধুনিক যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ আরও তিনটি দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে। তিনটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'আজ ভারত আর শুধু ক্রেতা নয়, এটি বহু দেশের কাছে আধুনিক অস্ত্র তৈরি ও বিক্রি করছে এবং দেশীয় শক্তিও গড়ে তুলছে।'
রবিবার কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই তিনটি যুদ্ধজাহাজকে নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তিন যুদ্ধজাহাজ হল যথাক্রমে INS দুনাগিরি, INS অগ্রয় ও INS সংশোধক। একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ। এই তিনটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট 'দুনাগিরি', ডুবোজাহাজ-বিরোধী অগভীর জলের যুদ্ধজাহাজ 'অগ্রয়' এবং জরিপ জাহাজ 'সংশোধক'। তবে, এই প্রথমবার নয় যে একদিনে তিনটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হলো। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি মুম্বইতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে নীলগিরি শ্রেণির প্রথম স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস নীলগিরি, ডেস্ট্রয়ার আইএনএস সুরাট এবং সাবমেরিন আইএনএস ভাগশীরকে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তিন যুদ্ধজাহাজ ভারতের নৌ-আধুনিকীকরণ অভিযানকে আরও জোরদার করবে। এবং এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম জলের উপর যুদ্ধ, ডুবোজাহাজ-বিরোধী অভিযান এবং হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের মতো ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ভারতের পুনর্জাগরণকে গতি দিয়েছে। বাংলা থেকেই আত্মনির্ভর, সুরক্ষিত ভারতের কার্যক্রম হচ্ছে। প্রতিরক্ষায় শক্তিশালী হতে গেলে জলপথে শক্তিধর হতেই হবে।’
যদিও মার্চেই এই তিন যুদ্ধজাহাজ নৌসেনার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে এই রণতরীগুলিকে নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া বাকি ছিল। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে নৌসেনার হাতে সেই তিন রণতরী তুলে দিলেন প্রধামন্ত্রী। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। এ ছাড়াও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। এ ছাড়াও নৌ এবং বায়ুসেনার আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন এই কর্মসূচিতে।
এই তিন যুদ্ধজাহাজের মধ্যে আইএনএস দুনাগিরি—অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন ফাইটার ফ্রিগেট, যা রেডারকে ফাঁকি দিয়ে শত্রুর ওপর নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। আইএনএস সংশোধক—সমুদ্রের অতল গভীরে নিখুঁত নজরদারি চালাতে সক্ষম বিশালাকার সার্ভে ভেসেল বা লার্জ সার্ভে জাহাজ। আইএনএস অগ্রয়— সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ যা সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রুর ডুবোজাহাজ নিমেষেই ধ্বংস করতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এগুলো ভারতেই তৈরি এবং ভারতেই ডিজাইন করা হয়েছে। এর পেছনে ভারতীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের অবদান রয়েছে। এটাই নতুন ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। আজ ভারত প্রতিরক্ষা খাতে আর কেবল একজন ক্রেতা হয়ে থাকতে চায় না।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের সামরিক শক্তি বিশ্বের জন্য বাজার হয়ে উঠতে পারে না। আমাদের শক্তির পরিচয় বিশ্ববাজার হয়ে ওঠার মধ্যে নয়, বরং আমাদের আত্মনির্ভরশীলতার মধ্যে নিহিত। ভারত উৎপাদক হতে চায়। যেদিন আমরা উৎপাদক হব, সেদিন আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও হব।' পাশাপাশি পূর্ব ভারতের এই বিকাশ কর্মসংস্থান বাড়াবে বলেও দাবি করেন মোদী।
এ দিন বাংলার ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় মোদীর মুখে। তিনি বলেন, ‘জলপথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমি এই বাংলা। হুগলি নদীর ধারা ইতিহাস বদলাতে দেখেছে। নতুন অধ্যায়, বিকাশের নতুন যাত্রা দেখেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই পোর্ট বাংলারই সুপুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে।’