চিকিৎসকদের সংগঠনের রাজ্য শাখার নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। পার্ক সার্কাসে Indian Medical Association (IMA)-র দফতরে তুলকালাম পরিস্থিতি। চিকিৎসকদের সংগঠনের রাজ্য শাখার নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন চিকিৎসকদের একাংশ। কেউ মাটিতে বসে পড়লেন। কেউ আবার দরজায় শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানালেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিন IMA-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক ছিল। নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন, কারা হবেন না, সেই বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন চিকিৎসকদের একাংশ। কিন্তু তাঁদের কয়েক জনকে বৈঠকের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এর পরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। যে হলঘরে বৈঠক চলছিল, তার দরজার বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন কয়েক জন চিকিৎসক। তাঁদের একাংশ মাটিতে বসে পড়েন। কেউ আবার দরজার সামনে শুয়ে পড়েন। তাঁদের বক্তব্য, একটি চিকিৎসক সংগঠনের বৈঠকে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন, সেটাই তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
কেন বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হল না?
বিক্ষোভকারী চিকিৎসকদের দাবি, তাঁরা IMA কলকাতা শাখার পদাধিকারী। সেই কারণেই রাজ্য শাখার নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠকে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, তাঁদের জানানো হয়, কলকাতা শাখার পদাধিকারীদের এই বৈঠকে থাকার অনুমতি নেই।
কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন? বিক্ষোভকারী চিকিৎসকদের অভিযোগ, IMA-র রাজ্য শাখার সম্পাদক শান্তনু সেনের নির্দেশেই তাঁদের বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এক প্রতিবাদী চিকিৎসকের কথায়, ভিতরে ঢোকার অনুমতি না দিলে রাস্তায় বসে বা শুয়ে প্রতিবাদ করা ছাড়া তাঁদের আর কোনও উপায় নেই। তাঁর দাবি, IMA কলকাতা শাখা কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। তা হলে কলকাতা শাখার পদাধিকারীদের রাজ্য শাখার বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হবে না কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
'রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো উচিত নয়'
উল্লেখ্য, আইএমএ কলকাতা শাখার সেক্রেটারি ডাঃ শিল্পা বসু রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের মেয়ে। চিকিৎসকদের দাবি, 'উনি এসএসকেএম হাসপাতালের একজন সিনিয়র চিকিৎসক। ডাঃ শিল্পা বসু রায় একজন অভিজ্ঞ কার্ডিওথোরাসিক সার্জেন। ফলে উনি কোনও রাজনৈতিক দল বা পারিবারিক পরিচয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় এই শাখায় রয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতি জড়ানো অনুচিৎ।'