Taratala Warehouse Tragedy: কীভাবে ভেঙে পড়ল গোডাউনের ছাদ? সরেজমিনে দেখে bangla.aajtak.in-কে বললেন বিশেষজ্ঞ

তারাতলায় নির্মাণকাজের সময়ে আস্ত গোডাউন ভেঙে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল? সরেজমিনে খতিয়ে দেখে মতামত জানালেন বিশেষজ্ঞ।

Advertisement
কীভাবে ভেঙে পড়ল গোডাউনের ছাদ? সরেজমিনে দেখে bangla.aajtak.in-কে বললেন বিশেষজ্ঞতারাতলায় কীভাবে ভাঙল গোডাউনের ছাদ?
হাইলাইটস
  • আস্ত গোডাউন ভেঙে ১১ জনের মৃত্যু
  • কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল?
  • সরেজমিনে খতিয়ে দেখে জানালেন বিশেষজ্ঞ

তারাতলায় নির্মাণকাজের সময়ে আস্ত গোডাউন ভেঙে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। আহত একাধিক। এখনও ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে রয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে সেনা, NDRF। অভিযোগ উঠছে, এই গোডাউনের কনস্ট্রাকশন প্ল্যানেই গলদ ছিল। এমনকী, নির্মাণকাজও সঠিক ভাবে হচ্ছিল না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সে সম্পর্কে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করলেন শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রাক্তন রেজিস্ট্রার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। bangla.aajtak.in-এ জানালেন গোডাউন ধসে পড়ার সম্ভাব্য কারণ। 

ত্রুটিপূর্ণ নকশা
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা বলেন, 'সাধারণ যে বিল্ডিংগুলি তৈরি হয়, সেগুলির থেকে এটি একটু আলাদা স্টিল স্ট্রাকচার ছিল। যদিও স্টিল স্ট্রাকচার একটু জটিল নকশা তবে অনেক গোডাউনেই স্টিল স্ট্রাকচারের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লোরগুলিতে কংক্রিটের স্ল্যাব দেওয়া হয়। এর জয়েনিং, ওয়েল্ডিং খুব নিয়ম মেনে করতে হয়। যাতে কোনও জয়েন্টে দুর্বল জায়গা না থাকে। কিন্তু ওখানে গিয়ে যা দেখলাম, নকশা একেবারেই ত্রুটিপূর্ণ।' 

উপর থেকে নীচে ঢালাই!
আরও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'ওখানে টপ ফ্লোর থেকে ঢালাই করা শুরু হয়েছিল। সেটা কেন করেছে বোঝা গেল না। এরকম হওয়ার কথা নয়। প্রত্যেকটা ফ্লোর নীচ থেকে উপরে ঢালাই হওয়ার কথা।

তদারকির অভাব
সুপারভিশন বা তদারকির অভাব হয়েছে ভয়ঙ্কর। এমনটাই মনে করছেন শিবপুরের এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন রেজিস্ট্রার। তাঁর মতে, 'এইরকম ধরনের বিল্ডিং তৈরি করার ক্ষেত্রে নকশা করার যোগ্যতা ছিল কি না, তা জানা নেই। ৬০ কাটা জমির উপর গোডাউন তৈরি হচ্ছিল। বিল্ডিং কমিটিতে নিয়ম অনুযায়ী, যে প্ল্যান জমা করেছে সে সমস্ত তথ্য দিয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা উচিত। সর্বোপরি অনুমোদন দেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেটাই ভাবনার বিষয়। দেখে মনে হচ্ছে, ভয়ঙ্কর কাটমানি প্ল্যানিং হয়েছে। কেউ না কেউ কোনও না কোনও জায়গায় চূড়ান্ত কম্প্রোমাইজ করেছে। সে কারণেই এই ভয়াবহ বিপর্যয়।'

Advertisement

গাফিলতি ও দুর্নীতির জেরেই বিপর্যয়
এই কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণের প্ল্যান কলকাতা পুরসভা থেকে অনুমোদন পেল কী করে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সরেজমিনে সবটা দেখে এসে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং অ্যাক্টে ওই জমিতে গোডাউন বা স্টোরেজ বা ওয়্যারহাউস করা যায় কি না, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটি নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, চূড়ান্ত গাফিলতি এবং দুর্নীতির ফসল এটা।'

 প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই জমিটি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের। সেটিকে লিজে দেওয়া হয়েছিল বেহরা ব্রাদার্স নামে ওই কোম্পানিকে। সেই জমিতে বিশাল মাপের এই নির্মাণ কাজের অনুমোদন পেয়েছিলেম প্রোমোটার আসগর হুসেইন। তিনিও ওই দুর্ঘটনা ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত। 

 

POST A COMMENT
Advertisement