ফাইল ছবিফুটপাতের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অংশ পথচারীদের চলাচলের জন্য খোলা রাখার কথা। হকারদের দোকান সীমাবদ্ধ থাকার কথা বাকি এক-তৃতীয়াংশ জায়গার মধ্যে। পাশাপাশি কোনও হকারেরই রাস্তায় দোকান বসানোর অনুমতি নেই এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা রাস্তার সংযোগস্থল থেকে অন্তত ৫০ মিটার দূরে ব্যবসা করার নিয়ম রয়েছে।
কিন্তু কলকাতার একাধিক বড় বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় ঘুরে দেখা যাচ্ছে, এই নিয়মগুলির অধিকাংশই কার্যত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ফুটপাত দখল থেকে শুরু করে রাস্তায় দোকান বসানো, সবই চলছে প্রকাশ্যে।
পথচারীদের জায়গা ক্রমশ সঙ্কুচিত
শহরের অন্যতম জনপ্রিয় কেনাকাটার কেন্দ্র ওবেরয় গ্র্যান্ড আর্কেড এলাকায় ফুটপাথের দু'পাশ জুড়েই দোকান বসে রয়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচলের জন্য অনেক জায়গায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম জায়গা অবশিষ্ট থাকছে।
নিউ মার্কেট এলাকাতেও একই ছবি। ২০২৪ সালে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ যৌথভাবে ফুটপাতে হলুদ দাগ কেটে হকারদের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ব্যবসা করার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রথমদিকে সেই নিয়ম কিছুদিন মানা হলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় পরিস্থিতি। বর্তমানে অনেক হকারই নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে দোকান সাজাচ্ছেন।
গড়িয়াহাটেও অবস্থা ভিন্ন নয়। মোড় থেকে যে দিকেই যাওয়া হোক না কেন, ফুটপাতের বড় অংশই হকারদের দখলে। ফলে পথচারীদের অনেক সময় রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
রাস্তাতেও ছড়িয়ে পড়েছে দোকান
নিয়ম অনুযায়ী রাস্তায় কোনওভাবেই দোকান বসানো যাবে না। কিন্তু বাস্তবে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় এই নিয়মের প্রকাশ্য লঙ্ঘন দেখা যাচ্ছে।
মধ্য কলকাতার ব্যস্ত ব্র্যাবোর্ন রোডের নন্দরাম মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার দু'ধারে ত্রিপল, প্লাস্টিকের সামগ্রীসহ নানা পণ্যের দোকান বসেছে। আর্মেনিয়ান স্ট্রিটের মতো আশপাশের সরু রাস্তাগুলিতেও হাঁটা বা দু'চাকার যান নিয়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিউ মার্কেটের হুমায়ুন প্লেস এবং বার্ট্রাম স্ট্রিটে বহু হকার মূল রাস্তার উপরেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ফলে ওই এলাকায় ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের চলাফেরায় ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে।
এক হকারের কথায়, 'পুলিশ বা কোনও অফিসার সরতে বললে আমরা সরে যাই। কিন্তু অন্য সময় এখানেই ব্যবসা করি।'
হাতিবাগান থেকে গড়িয়াহাট, একই চিত্র
হাতিবাগানে হকারদের দোকান শুধু ফুটপাতেই সীমাবদ্ধ নেই। অনেক জায়গায় পসরা ছড়িয়ে পড়েছে অরবিন্দ সরণি ও বিধান সরণির রাস্তার অংশ পর্যন্ত। গড়িয়াহাট মোড়েও রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের উপর একাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে খাবারের দোকানের সংখ্যাই বেশি।
মানা হচ্ছে না ৫০ মিটারের নিয়ম
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা রাস্তার সংযোগস্থল থেকে অন্তত ৫০ মিটার দূরে হকারদের বসতে হবে। কিন্তু শহরের অধিকাংশ ব্যস্ত মোড়েই এই বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না।
এসএন ব্যানার্জি রোড ও চৌরঙ্গি রোডের সংযোগস্থলের কাছাকাছি ফুটপাতজুড়ে অসংখ্য দোকান দেখা গেছে। একই ছবি বেহালার ১৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ড মোড়েও। সেখানে প্রধান হকার্স মার্কেটটি ব্যস্ত ক্রসিং থেকে ২০ মিটারেরও কম দূরত্বে শুরু হয়েছে।
হাতিবাগান ও গড়িয়াহাটের মতো এলাকায় মোড়ের এত কাছাকাছি এবং এত ঘনবসতিপূর্ণভাবে দোকান বসানো হয়েছে যে সেগুলির সংখ্যা গুনে শেষ করা কঠিন। সব মিলিয়ে, কলকাতার বিভিন্ন বাজার এলাকায় হকারদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আর তারই খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকদের।