শেষলগ্নের আস্বাদ পেতে শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে জনজোয়ারশহরের মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাকের গুরু গম্ভীর বাদ্যি। মিষ্টি ঢ্যাং কুরাকুর শব্দের বদলে যেন মাকে গুরু গম্ভীর স্বরে বিদায় জানানো হচ্ছে। আর কয়েক ঘণ্টার পরেই ফের শুরু হবে দীর্ঘ একবছরের প্রতীক্ষা। তাই শেষ লগ্নে যেন ভিড়ের দাপট আরও বেশি।
সন্ধ্যের পর যত রাত বাড়ছে, ভিড়ও যেন ততই বাড়ছে। বেশিরভাগ মণ্ডপেই যেমন দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়, তেমনই রাস্তাতেও তিল ধারণের জায়গা নেই। উৎসবের শেষলগ্নের আস্বাদ পেতে যেন মরিয়া বাঙালি। রাত ১০টাতেও উত্তর কলকাতার টালা পার্ক প্রত্যয়ে দেখা গিয়েছে ব্যাপক ভিড়। সন্ধের থেকেও যেন ভিড় বেশি রাতে। প্রতিটি মণ্ডপে ভিড়ের পাশাপাশি খাবারের দোকানগুলিতেও যেন পাত ফেলার জায়গা নেই। উত্তর কলকাতা থেকে শুরু করে শহরের দক্ষিণ প্রান্ত সর্বত্র চিত্রটা যেন একই।
তবে শুধু থিমের পুজো নয়, বনেদি বাড়ির পুজোতেও যেন নবমীর বিকেল থেকেই পা ফেলার জায়গা পাওয়া যায়নি। প্রথা মেনে নবমীতে হোম, বলি, আরতি, বিশেষ পুজো হয়েছে কলকাতার বনেদি বাড়িগুলির অন্যতম শোভাবাজার রাজবাড়িতে। বলি দেওয়া হয় আখ, চালকুমড়ো, মাগুর মাছ। আর বিকেলের পর থেকে এই বাড়িতে পা ফেলার মতো অবস্থা ছিল না।
ফলে সব মিলিয়ে বলা যায়, উৎসবের আমেজের শেষবিন্দু কণা মিস করতেও যেন বাঙালি রাজি না। তাই আজ ঢাকের গুরুগম্ভীর আওয়াজ নিয়ে, বিষাদে রাত জাগছে বাঙালি। আজ হোলনাইট ঘোরাঘুরি করে, আগামীকালই বিদায় দেওয়া হবে মা'কে। আবার এক বছরের জন্য।
আর প্রতীক্ষা যেহেতু লম্বা, সেই কারণেই নবমীর নিশি পালনের চাহিদাও যেন বড্ড বেশি। পুজো চলে যাচ্ছে, এই তাড়নাতেই যেন বাঁধ ভেঙে আজ রাস্তায় নেমেছে বহু দর্শনার্থী। মহেন্দ্র সিং ধোনি যদি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ফিনিশার হন, তবে বাঙালিও যে পুজোর ইনিংসে নবমীর রাত জাগতে সেরা ফিনিশার হয়ে ওঠে, তা প্রমাণ করছে আজকের রাতই। রাত ১০টার পরেও যেভাবে প্য়ান্ডেল হপিং চলছে, তাতে স্পষ্ট ভোরের আগে বাড়িমুখো হবেন না বহু দর্শনার্থীই। কারণ, মা চলে যাচ্ছেন, তাই বিদায় বেলায় যতটা পারা যায় স্মৃতি আর অনুভূতির ভাণ্ডার ভরে নিতে চাইছে বাঙালি।