চোরবাগান নিয়ে বিস্ফোরক রত্নাসপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। এই বিপর্যয়ের তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে SIT গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। ৩ মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেওয়ার কথা সিটের। পুজো মিটতেই বৃহস্পতিচোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে আসেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। প্রতিমা দেখার জন্য কতটা জায়গা বরাদ্দ ছিল, মণ্ডপে ঢোকা এবং বেরোনোর পথ যথেষ্ট প্রশস্ত ছিল কিনা, আপাতত ত্রিমাত্রিক স্ক্যানারের মাধ্যমে সেই হিসাব নিচ্ছেন তাঁরা। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা আরও জানাচ্ছেন, মণ্ডপে প্রবেশ এবং বাহির পথ দিয়ে কত দর্শনার্থী একসঙ্গে যেতে পারেন, তারও হিসাব করা হবে ত্রিমাত্রিক স্ক্যানারের সাহায্যে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাবে, প্রথম সপ্তমী, অর্থাৎ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার রাতে ওই জায়গা দিয়ে কত দর্শক ঢুকেছেন বা বেরিয়েছেন। যা থেকে বোঝা সম্ভব হবে, কত অতিরিক্ত দর্শনার্থী ওই সময়ে মণ্ডপে জড়ো হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, এই বিপর্যয়ের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে, পুজো কমিটির তরফে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল, অত্যধিক ভিড়ে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি হয়েছে। দর্শনার্থীরা যেন দ্রুত বেরিয়ে আসেন। এর ফলেই তাঁদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ফরেন্সিক দলের সদস্যেরা জানাচ্ছেন, ওই ঘোষণার কারণে, না কি মণ্ডপের প্রবেশ এবং বেরোনোর পথে অতিরিক্ত দর্শনার্থী থাকার কারণে এই বিপর্যয়, তা তাঁরা তদন্ত করে দেখবেন। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু নমুনাও সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। ফরেন্সিক দলের সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরাও। এদিকে চোরবাগান দুর্ঘটনা নিয়ে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি সাংসদ রত্না দেবনাথ।
কী বললেন রত্না দেবনাথ?
বিজেপি বিধায়ক এবং আরজি কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ চোরবাগানের ঘটনার জন্য জনগণকেই দায়ী করেছেন। রত্না দেবনাথ বলেন, 'মানুষ যদি বাইরে বেরিয়ে বৃষ্টিতে ভিজত, তাহলে এত ভিড় হতো না। মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই তদন্ত করছেন, আমি আর কী দাবি করতে পারি? এই ঘটনার জন্য মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন, আমাদের মানসিকতার এবং জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।'
মানুষের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা। চোরবাগানের ঘটনা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন রত্না দেবনাথ। পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক বলেন, 'আমাদের মানসিকতা চেঞ্জ করতে হবে, গাফিলতি আছে, গাফিলত মানুষের আছে। নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না। বৃষ্টিতে ভিজলে কী হত। ছটা মানুষ একটা মানুষের ওপরে। একটা বাচ্চা ছেলের ওপর হমড়ি খেয়ে পড়ছে। মানুষের মানসিকতা চেঞ্জ করতে হবে।'
কার অবহেলা বলে মনে হচ্ছে? এই প্রশ্নে রত্না দেবনাথের জবাব, 'এটা অবশ্যই অবহেলা। এটা জনগণের। তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুর পরোয়া করে না। তারা যদি বৃষ্টিতে ভিজত তাহলে কী হতো? কিছুই হতো না।' পুলিশ তো বেরোনোর গেটে ছিল না, আপনি কী বলবেন? এর জবাবে রত্না দেবনাথ বলেন, 'পুলিশ কি বেরোনোর গেটে ছিল নাকি ছিল না? আমি সেখানে ছিলাম না।'
উল্লেখ্য, কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পরে স্থানীয়দের একাংশ পুজো কমিটির পাশাপাশি আঙুল তুলেছিল পুলিশের দিকেও। তাঁদের অভিযোগ, ডাকাডাকির পরেও খোঁজ মেলেনি পুলিশের। পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের মুখে আগে সেই কথাই শোনা গিয়েছিল। রত্না দেবনাথ বলেছিলেন, ‘এরা (পরিবার) বলছে পুজো কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। পুলিশের গাফিলতি রয়েছে।’ চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির দু’জন। গত রবিবার তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রত্না। কলকাতার হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।