Kolkata Book Fair: বইমেলায় গিল্ডের আধিপত্য শেষের পথে? BJP-র এন্ট্রি ঘিরে চাপানউতর শুরু

Kolkata Book Fair 2027: কলকাতা বইমেলা ঘিরে চলছে কোন্দল? ২০২৭ সালের শুরুতে হতে চলেছে ৫০তম কলকাতা বইমেলা। সূত্রের দাবি, মেলার আয়োজনে গিল্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি হচ্ছে বিজেপি-আরএসএস সমর্থিত একটি প্রকাশক সংগঠন।

Advertisement
বইমেলায় গিল্ডের আধিপত্য শেষের পথে? BJP-র এন্ট্রি ঘিরে চাপানউতর শুরুগিল্ডের একাধিপত্য ভাঙতে ডাক বিজেপি সমর্থিত সংগঠনের
হাইলাইটস
  • কলকাতা বইমেলার আয়োজন ঘিরে প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই চড়ছে পারা।
  • কাদের হাতে থাকবে এবার বইমেলার নিয়ন্ত্রণ?
  • বিজেপি সমর্থিত একটি পাবলিশার্স সংগঠন বইমেলা আয়োজনে এবার চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে গিল্ডকে।

কলকাতা বইমেলার আয়োজন ঘিরে প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই চড়ছে পারা। আসন্ন  ২০২৭ সালে আয়োজিত কলকাতা বইমেলা এবার পা দিতে চলেছে ৫০তম বছরে। স্বাভাবিক ভাবেই মেলাকে আরও সাংস্কৃতিক ও আরও বহরে বাড়ার ভাবনা চিন্তা করার কথা আয়োজকদের। কিন্তু ২৬-এর অগাস্টেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কাদের হাতে থাকবে এবার বইমেলার নিয়ন্ত্রণ। সূত্রের দাবি, বিজেপি সমর্থিত একটি পাবলিশার্স সংগঠন বইমেলা আয়োজনে এবার চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে গিল্ডকে।

কারা কলকাতা বইমেলার আয়োজন করে?

১৯৭৬ সাল থেকে হয়ে আসা কলকাতা বইমেলার আয়োজন প্রথম থেকেই করে আসছে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। সেই হিসেবে এবার ৫০তম বছর পূর্তি করবে কলকাতা বইমেলা। 

এবারে কী নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে?

কিন্তু সূত্রের দাবি, বিজেপি ও আরএসএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা 'বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদ' ইতিমধ্যেই প্রকাশক, বই বিক্রেতা, মুদ্রক এবং প্রকাশনা জগতের অন্যান্য অংশীদারদের একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের দাবি, বইমেলার পরিচালনায় প্রকাশনা জগতের বৃহত্তর অংশকেও মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদের এক মুখপাত্র সোমবার বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই বিশাল বইমেলা কোনও একটি সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। অন্যান্য প্রকাশক সংগঠনগুলিকেও এর আয়োজনে ভূমিকা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার রবিবার জানান, প্রকাশক ও বই বিক্রেতাদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রায় ১৩টি সংগঠন রয়েছে। তাঁর যুক্তি, বইমেলা যেহেতু সকলের সম্মিলিত অনুষ্ঠান, তাই সমস্ত অংশীদারকেই সেখানে জায়গা দেওয়া উচিত।

আবার এই পরিষদেরই আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দিতে চায় না।" তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলেরই বইমেলার উপর একচেটিয়া অধিকার থাকা উচিত নয়।

গিল্ডের কী বক্তব্য?

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের দাবি, কলকাতা বইমেলার আন্তর্জাতিক মর্যাদা কয়েক দশকের পরিশ্রমের ফল। রাতারাতি সেই ঐতিহ্য তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড ১৯৭৬ সালে প্রথম ক্যালকাটা বুক ফেয়ার আয়োজন করেছিল। পরবর্তীতে এই বইমেলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অবাণিজ্যিক বইমেলায় পরিণত হয় বলে জানান গিল্ডের আধিকারিক অপু দে।

Advertisement

অপু দে বলেন, “বইমেলা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাহিত্য অনুষ্ঠান। গিল্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সমস্ত অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে বইমেলার পরিধিও বেড়েছে। আসন্ন বছরের প্রস্তুতিও আমরা শুরু করেছি।”

রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, আগের বছরগুলির মতোই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর বইমেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। তবে তিনি বলেন, "আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে আমরা নিশ্চিত করব, বইপ্রেমী, লেখক, শিল্পী, প্রকাশক এবং সমস্ত অংশীদারের প্রতিনিধিত্ব কমিটিতে থাকবে।"


 

POST A COMMENT
Advertisement