Bageshwar Baba: 'বাগেশ্বর বাবা বাচাল ছেলে,' দুর্গাপুজোয় নিরামিষ নিদান নিয়ে কটাক্ষ স্বামী পরমাত্মানন্দের

'বাঙালিকে বোকা বানাতে এলে বাঙালি ঘুরিয়ে নাক দেখিয়ে দেবে।' এমনটাই মন্তব্য করলেন স্বামী পরামত্মানন্দজি মহারাজ। বাগেশ্বর বাবাকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, 'বাগেশ্বর বাবা একটি বাচাল ছেলে। কে কী খাবে তা অন্য জায়গা থেকে এসে কখনওই বলে দিতে পারেন না।'

Advertisement
 'বাগেশ্বর বাবা বাচাল ছেলে,' দুর্গাপুজোয় নিরামিষ নিদান নিয়ে কটাক্ষ স্বামী পরমাত্মানন্দেরবাগেশ্বর বাবা, স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ
হাইলাইটস
  • 'বাগেশ্বর বাবা একটি বাচাল ছেলে'
  • তীব্র কটাক্ষ স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ
  • বাঙালি ঘুরিয়ে নাক দেখিয়ে দেবে বলেও মন্তব্য

বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর দুর্গাপুজোর সময়ে নিরামিষ খাওয়ার নিদান ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যে হিন্দু দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁরা আসলে পাষণ্ড! এমনটাই মন্তব্য করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু। তাঁর এই মন্তব্যে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে অধিকাংশ বাঙালি। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে তর্জা। শাস্ত্র, পুজোর নিয়ম, নিরামিষ-আমিষ নিয়ে তুমুল বাদানুবাদের মাঝেই এবার ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর কড়া সমালোচনা করলেন স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তাঁর কথায়, 'বাগেশ্বর বাবা একটি বাচাল ছেলে। কে কী খাবে, কে তাঁর ভগবানকে কী অর্পণ করবে, এই নিয়ে বলা এককথায় অসভ্যতা।'

বাঙালি আমিষ রান্নাও করবে আর দুর্গাপুজোর ক'টা দিন কব্জি ডুবিয়ে কচি পাঁঠার ঝোলও খাবে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, 'দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালি কব্জি ডুবিয়ে কচি পাঁঠার ঝোল, ইলিশ মাছ ভাজা, চপ-কাটলেট, চিলি চিকেন খাবে। দেবতাকে মাছ-মাংস নিবেদন করবে। সেটা নিয়ে কেউ যেন দাদাগিরি ফলাতে না আসে।'

সনাতনীদেরও একহাত নেন এই মহারাজ। স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, 'প্রশাসনিক প্রধান সহ যে সমস্ত সনাতনীরা ওই বাবার সঙ্গে বসে খেলেন, তাঁদের কোথাও হৃদয়ে লাগল না? এই পাখণ্ডী কথাটা তো তাঁদেরও বলা হল। অন্য জায়গার অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষকে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে বোকা বানাতে পারো, বাঙালিকে বোকা বানাতে আসলে বাঙালি ঘুরিয়ে নাক দেখিয়ে দেবে।'

শাস্ত্রে 'মদ্য-মাংসে বলিপ্রিয়া' বলা হয়েছে দেবীকে, এমনটাই জানালেন স্বামীজি। বাগেশ্বর বাবাকে 'হনু বাবা' বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। 

স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, 'কোনও জাতির কাছে এসে তার কৃষ্টি-ধর্মীয় পরম্পরা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে ছোট-বড় কথা বলা কোনও সাধুদের লক্ষণ হতে পারে না। এ কেবল অল্পবয়সের বাচালতা। বাগেশ্বর বাবা একটি বাচাল ছেলে। যা শাক্ত পরম্পরা, ঐতিহ্যকে আঘাত করেছে। সবচেয়ে দুঃখের এবং আশ্চর্যের প্রশাসনিক প্রধান এবং নামকরা সনাতনীরা তাঁর সঙ্গে বসে খেলেন। পাখণ্ডী তাঁদেরকেও বলা হচ্ছে কিন্তু।'

Advertisement

স্বামীজি আরও বলেন, 'ওঁ তো বাচ্চা ছেলে নবরাত্রী দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু দুর্গোৎসব যে কত বিশাল পৌরাণিক ব্যাপার, এর সঙ্গে বৈদিক পরম্পরা যুক্ত, তাঁর এই বোধ আসা সম্ভব নয়। শাস্ত্র পড়তে গেলে যে প্রজ্ঞা আসা দরকার সে বয়স আসতে হবে তো। পোশাক দেখে কি মনে হয় বিশাল হনুমান সাধক? আমরা যে ঐতিহ্যে অভ্যস্ত তাতে কোনও পাপ নেই, কোনও অশাস্ত্রীয় বিধি নেই। কারা ষড়যন্ত্র করে বাংলার সনাতনীদের হৃদয়ে চিড় ধরানোর চেষ্টা করছেন, তা এই রাজনীতিওয়ালারা খুঁজে বের করুন। সর্বোপরি স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের হৃদয়ের দেবতা। তাঁর দেখানো পথেই আমরা হাঁটব। কোনও বাবার আমাদের দরকার নেই।'

 

POST A COMMENT
Advertisement