মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদের মতো বিধানসভাতেও দলত্যাগ বিরোধী আইনের জবাবদিহির জন্য নোটিস পেল বিদ্রোহী তৃণমূল। ঋতব্রতপন্থী ১০ জন বিধায়ককে নোটিস দিয়েছে বিধানসভার সচিবালয়। কেন তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হবে না, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে নালিশ জানিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল। ৭ দিনের মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে তাঁদের।
এই ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে বিধানসভার সচিবালয়ে নালিশ জানিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। স্পিকারকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূলের পক্ষ থেকে। দলবিরোধী কার্যকলাপ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ১০ জনের তালিকায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রয়েছে আখরুজ্জামান, সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়ের মতো বিধায়করা।
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এই নোটিস জারি করা হয়েছে ১০ জনের বিরুদ্ধে। বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে দলীয় নির্দেশ অমান্য করা ও বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলেছেন। লিখিত ভাবে সেই অভিযোগগুলি স্পিকারের কাছা জমা দেওয়ার পাশাপাশিই সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে জানিয়েছেন শোভনদেব।
একদিকে দলীয় প্রতীক নিয়ে কমিশনে টানাপোড়েন চলছে। অন্যদিকে, সমাধান সূত্র না বের হলেও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে দুই শিবিরই।
এবার দেখার বিধানসভার এই নোটিসে ঋতব্রতপন্থী ১০ বিধায়ক সাড়া দেন কি না। বিধায়কদের উত্তর পাওয়ার পর স্পিকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। উপনির্বাচনের ঠিক মুখে বিধানসভার এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়াও বিষয়টি আইন-আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।