

আজ ২৫ শে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্ম জয়ন্তী। আর আজই কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ দেশের একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে বাংলার নবমতম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
তবে গত সোমবার ভোটের ফলপ্রকাশ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা চালানো কিংবা তৃণমূল কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। আর এই আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে প্রকাশ্য রাজপথে ফেলে এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজনকে।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পর পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শুরু হয়েছে মুসলিম নিধন।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরবর্তী হিংসার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে দেনমোহর এবং গহনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে বিবাদের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেহাত কোতোয়ালি এলাকায় একটি বিয়ের আগে গহনা এবং দেনমোহর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বর ও কনে পক্ষ।
ওই পোস্টের নীচে আমরা সাহারানপুর জেলা পুলিশের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি মন্তব্য করা হয়। সেই মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কোতোয়ালি দেহাত থানা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পাওয়া গেছে। এই খবর পাওয়ার পরেই কোতোয়ালি দেহাত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি, দেহাত কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারীক বিষয়টি তদন্ত করার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এরপর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিও এবং সেটির স্ক্রিনশট-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের দেহাত কোতোয়ালি থানার কুতুবপুর মাজরা গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ নামক এক যুবক বিয়ের জন্য বেহাত রোড এলাকায় পৌঁছায়। কিন্তু সেদিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হওয়ার কারণে বাজার বন্ধ ছিল থাকায় বর পক্ষ প্রত্যাশার চেয়ে কম গহনা এবং দেন-মোহরের সামগ্রী নিয়ে বিয়ে করতে উপস্থিত হয়। কিন্তু এতে কনে পক্ষ আপত্তি জানায়।
তখন উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এবং মুহূর্তে মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয় পক্ষ লাঠি ও রডের সাহয্যে একে অপরকে মারধর করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে স্থানীয় দেহাত কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর ও বরের ভাই-সহ তিনজনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বিজেপি নির্বাচনে জয়ের পরে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মারধর করা হচ্ছে দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে উত্তর প্রদেশের বিয়ে বাড়ির বিবাদের অসম্পর্কিত ভিডিও।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় ফেলে মুসলিমদের মারধর করা হচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরবর্তী হিংসার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে বিবাদের দৃশ্য।