West Bengal Property Price: মেট্রো ও শিল্পে কোন কোন এলাকায় জমি-বাড়ির দাম বাড়তে পারে? বিশেষজ্ঞ মতামত

West Bengal Property Price: কলকাতা ও শহরতলিতে মেট্রো কানেকশান বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্প পরিকাঠামোরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামিদিনে কিছু এলাকার জমি-বাড়ির বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
মেট্রো ও শিল্পে কোন কোন এলাকায় জমি-বাড়ির দাম বাড়তে পারে? বিশেষজ্ঞ মতামতআগামিদিনে কিছু এলাকার জমি-বাড়ির বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা।
হাইলাইটস
  • কলকাতা ও শহরতলিতে মেট্রো কানেকশান বাড়ছে।
  • রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্প পরিকাঠামোরও সম্ভাবনা রয়েছে।
  • স্থানীয় চাহিদা কেমন থাকে, তার উপর বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।

West Bengal Property Price: কলকাতা ও শহরতলিতে মেট্রো কানেকশান বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্প পরিকাঠামোরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামিদিনে কিছু এলাকার জমি-বাড়ির বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেখানে নতুন মেট্রো, শিল্পাঞ্চল এবং সড়ক যোগাযোগ; তিনটি একসঙ্গে মিলছে, সেই এলাকাগুলিতে নজর রাখছেন রিয়েল এস্টেট প্রোমোটাররা।

তবে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় জমি বা বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কতটা বাড়বে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত এগোয়, কর্মসংস্থান কতটা তৈরি হয় এবং স্থানীয় চাহিদা কেমন থাকে, তার উপর বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।

নজরে মেট্রো করিডর
বরানগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত পিঙ্ক লাইন ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে। ১২.৫ কিলোমিটারের এই করিডরে ১১টি স্টেশনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালে এই প্রকল্পের কাজের জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি BT Road-এর নিচে থাকা পুরনো জলের পাইপলাইন সরানোরও ছাড়পত্র মিলেছে।

ফলে বরানগর, কামারহাটি, আগরপাড়া, পানিহাটি, সোদপুর, খড়দহ, টিটাগড় এবং ব্যারাকপুরের মতো এলাকাগুলি  এখন প্রপার্টির দিক থেকে ট্রেন্ডিং। এসকে রিয়েলটর্সের প্রপার্টি অ্যাডভাইজার মধুমিতা সেনের মতে, মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় বাড়ি ভাড়া এবং আবাসনের চাহিদা বাড়তে পারে। 'মেট্রো হবে', এই ট্যাগলাইন দিয়ে সেলস পিচও করা হচ্ছে সম্ভাব্য ক্রেতাদের। ফলে মেট্রোর জন্য যে জমি-বাড়ির দামে রীতিমতো প্রভাব পড়বে তা বলাই বাহুল্য। এর আগে নিউ গড়িয়া মেট্রোর সময়েও এই একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, জানালেন মধুমিতা। 

ঠিক কত দাম বেড়েছে?
বরানগরের ইতিমধ্যেই কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। Housing.com-এর ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বরানগরে গড় এনলিস্টেড সম্পত্তির দাম প্রতি বর্গফুটে প্রায় ৫,৮৩০ টাকা। গত এক বছরে বৃদ্ধির হার প্রায় ২৫ শতাংশ। অবশ্য বিভিন্ন পাড়া ও সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী দামের পার্থক্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও এক বছরে ২৫% বেড়ে যাওয়া মুখের কথা নয়। 

শিল্পের কারণে কোথায় চাহিদা বাড়তে পারে?
শুধু কলকাতার আশপাশ নয়। শিল্পাঞ্চলগুলিও আগামিদিনের রিয়েল এস্টেট বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কালিনী, খড়গপুর, উলুবেড়িয়া, ফলতা, হলদিয়া, বিষ্ণুপুর, কোচবিহার, মালদা-সহ একাধিক জায়গায় ইন্ডাস্টিয়াল পার্ক রয়েছে।

Advertisement

এর মধ্যে খড়গপুরকে আলাদা চোখে দেখছেন প্রোমোটাররা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খড়্গপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ইস্পাত, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকম এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ইউনিট রয়েছে। শিল্পের পাশাপাশি রেল ও জাতীয় সড়কের যোগাযোগও রয়েছে।

শিল্প সংস্থা বাড়লে শুধু কারখানা নয়, কর্মীদের জন্য বাড়ি, ভাড়া-বাড়ি, দোকান, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য পরিষেবার চাহিদাও তৈরি হতে পারে। সেই কারণে শিল্পাঞ্চলের কাছের আবাসিক এলাকাগুলিরও গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

উলুবেড়িয়াতেও শিল্পের প্রভাব
হাওড়ার উলুবেড়িয়া দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উলুবেড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রায় ৭০টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্লাস্টিক-সহ বিভিন্ন শিল্প সেখানে রয়েছে।

তবে বর্তমানে উলুবেড়িয়ায় আবাসনের বাজার যে দ্রুত হারে বাড়ছে, তেমনটাও নয়। Housing.com-এর ২০২৬ সালের লিস্টিং অনুযায়ী দাম উল্টে কমেছে। ফলে শিল্প থাকলেই যে জমির দাম সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে; এমনও নয়। 

কল্যাণী, দুর্গাপুরেও নজর রাখুন
কল্যাণীতেও বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কল্যাণী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রায় ৩২৪ একর। দুর্গাপুরও দীর্ঘদিনের পরিচিত শিল্পকেন্দ্র। সেখানে ইস্পাত, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যান্য শিল্পের পাশাপাশি নতুন আবাসন ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোর সম্ভাবনা রয়েছে।

রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো স্টেশন বা শিল্পকেন্দ্র থেকে খুব দূরে নয়, এমন জায়গার দাম দ্রুত হারে বাড়ে। কারণ সেখানে যাতায়াতের সুবিধাও বাড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়। তবে জমি কেনার আগে রাস্তা, জল, নিকাশি, বিদ্যুৎ, জমি কেমন এবং সরকারি অনুমোদন যাচাই করে নেবেন।

কোন কোন এলাকায় লক্ষ্য রাখবেন?
সব মিলিয়ে বরানগর-বাঁরাকপুর মেট্রো করিডর, খড়গপুর, কল্যাণী, উলুবেড়িয়া এবং দুর্গাপুরের মতো শিল্প ও পরিকাঠামো-নির্ভর অঞ্চলগুলিতে জমি-বাড়ির দাম আগামিদিনে বাড়তে পারে। এর সঙ্গে মেট্রোর ইয়েলো লাইন (বিমানবন্দর থেকে বারাসতমুখী) এবং অরেঞ্জ লাইনের এক্সটেনশন হলে উত্তর ও পূর্ব কলকাতার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হতে পারে। কলকাতা মেট্রোর সরকারি নথিতে পিঙ্ক, ইয়েলো, অরেঞ্জ এবং পার্পল লাইনের বিভিন্ন এক্সটেনশনের বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে।

তাই বলে, শুধু 'মেট্রো আসছে' বা 'শিল্প হবে' শুনে জমি-বাড়ি কেনা ঠিক নয়। প্রকল্পের অগ্রগতি, স্টেশন থেকে দূরত্ব, স্থানীয় বাজার এবং জমির কাগজপত্র; সব দিক খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে সম্পত্তির চাহিদা বাড়তে পারে। কিন্তু প্রতিটি এলাকায় তার প্রভাব একই রকম হয় না। 

দ্রষ্টব্য: বিনিয়োগ, রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশেষজ্ঞ মতামত ও বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী লেখা। এগুলি সম্পাদকীয় সুপারিশ নয়। 

POST A COMMENT
Advertisement