কুড়ি লক্ষেরও বেশি খাবার, যাত্রা চলছেই: সমাজের পাশে স্বস্তিক গ্রুপ

২০২১ সালের মার্চ মাসে মাত্র একটি ফুড ট্রাক নিয়ে ‘অন্ন সেবা’ শুরু করে স্বস্তিক গ্রুপ। উদ্দেশ্য ছিল সহজ ও স্পষ্ট: যাঁরা হয়তো না খেয়েই দিন কাটাতেন, তাঁদের হাতে টাটকা রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া। তারপর থেকে এই উদ্যোগের পরিসর অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমানে তিনটি ফুড ট্রাক কলকাতা ও আশপাশের শহরতলি জুড়ে ঘুরে প্রতিদিন ২,০০০-এরও বেশি মানুষের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছে।

Advertisement
কুড়ি লক্ষেরও বেশি খাবার, যাত্রা চলছেই: সমাজের পাশে স্বস্তিক গ্রুপস্বস্তিক গোষ্ঠীর সোনালী সফর - নিজস্ব চিত্র
হাইলাইটস
  • একটি ফুড ট্রাক দিয়ে শুরু হওয়া পথচলা
  • নানাভাবে সমাজের পাশে
  • কেন সমাজসেবাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করল স্বস্তিক গ্রুপ

এক থালা গরম, টাটকা রান্না করা খাবার আমাদের কাছে নিত্যদিনের সাধারণ বিষয় মনে হতেই পারে। কিন্তু বহু মানুষের কাছে দিনে একবেলা পেট ভরে খাওয়াটুকুও সহজ নয়। কলকাতায় এই সমস্যার মোকাবিলায় নিজেদের দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে স্বস্তিক গ্রুপ। লক্ষ্য একটাই, যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদের কাছে খাবার ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।

১৯৮৪ সাল থেকে আবাসন ক্ষেত্রে কাজ করে আসা এই সংস্থা সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাকে কেবল ব্যবসার গণ্ডিতে আটকে রাখেনি। নিজস্ব দাতব্য সংস্থা ‘শ্রী নারায়ণী নমো নমো’-র মাধ্যমে গ্রুপটি ‘অন্ন সেবা’ ও ‘জল সেবা’-র মতো উদ্যোগ পরিচালনা করে। স্বল্পমেয়াদি দাতব্য কর্মসূচিগুলির থেকে এগুলি আলাদা, কারণ এই প্রকল্পগুলি একটি স্থায়ী ব্যবস্থার অংশ, যা সারা বছর ধরে চালু থাকে।

একটি ফুড ট্রাক দিয়ে শুরু হওয়া পথচলা

২০২১ সালের মার্চ মাসে মাত্র একটি ফুড ট্রাক নিয়ে ‘অন্ন সেবা’ শুরু করে স্বস্তিক গ্রুপ। উদ্দেশ্য ছিল সহজ ও স্পষ্ট: যাঁরা হয়তো না খেয়েই দিন কাটাতেন, তাঁদের হাতে টাটকা রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া। তারপর থেকে এই উদ্যোগের পরিসর অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমানে তিনটি ফুড ট্রাক কলকাতা ও আশপাশের শহরতলি জুড়ে ঘুরে প্রতিদিন ২,০০০-এরও বেশি মানুষের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছে। খাবার রান্না হয় একটি কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে, আর পরিবেশনের আগে ট্রাকেই তৈরি করা হয় গরম গরম রুটি। সম্প্রতি এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিনামূল্যে কুড়ি লক্ষেরও বেশি খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এই সংখ্যার পিছনে রয়েছে হাজার হাজার দৈনন্দিন মুহূর্ত। যে মানুষটি সারাদিন রাস্তায় খেটে কাটিয়েছেন কিংবা দু’বেলা দু’মুঠো জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁর কাছে এক বেলার খাবার অনেকটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। ‘অন্ন সেবা’-র লক্ষ্য হল, এই সহায়তা শুধু উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষে নয়, নিয়মিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Advertisement

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে স্বস্তিক গ্রুপের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা একটা সহজ ভাবনা থেকে শুরু করেছিলাম। খাবারের মতো মৌলিক জিনিসের জন্য কাউকে যেন লড়াই করতে না হয়। সময়ের সঙ্গে আমরা বুঝেছি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধারাবাহিকতা। একবার কাউকে খাবার দেওয়া নিশ্চয়ই সাহায্য, কিন্তু প্রতিদিন সেটা করে যেতে পারাই এই প্রচেষ্টাকে অর্থবহ করে তোলে। আমাদের চারপাশের মানুষের জন্য যতটা সম্ভব, আমরা সেটা করে যেতে চাই।”

নানাভাবে সমাজের পাশে

খাদ্য বিতরণ গ্রুপের সমাজসেবামূলক কাজের একটি অংশ মাত্র। ‘জল সেবা’-র মাধ্যমে স্বস্তিক গ্রুপ পথচলতি মানুষের জন্য ঠান্ডা পানীয় জলের ব্যবস্থাও করে। বিপর্যয়ের সময়েও পাশে দাঁড়িয়েছে এই গ্রুপ। ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস যখন পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ে, বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সময় বাংলার শহরতলির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল স্বস্তিক গ্রুপ। ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সামলাতে থাকা পরিবারগুলির কাছে তখন খাবার জোগাড় করাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে জরুরি চিন্তা। সেই কঠিন দিনগুলি পার করতে মানুষকে সাহায্য করাই ছিল গ্রুপের ত্রাণ কার্যক্রমের লক্ষ্য।

কেন সমাজসেবাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করল স্বস্তিক গ্রুপ

অনেক সংস্থাই উৎসব, বিশেষ দিন বা বার্ষিক সিএসআর (CSR) প্রচারকে কেন্দ্র করে দাতব্য কাজ করে থাকে। স্বস্তিক গ্রুপ সেখানে বেছে নিয়েছে একটু ভিন্ন পথ। কয়েক মাস অন্তর আলাদা আলাদা প্রকল্পের পরিকল্পনা না করে, গ্রুপটি নিজস্ব দাতব্য সংস্থা ‘শ্রী নারায়ণী নমো নমো’ পরিচালনা করে, যা সারা বছর ধরে সমাজকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যায়। এর ফলে শুধু নতুন কিছু করার জন্য নতুন উদ্যোগ শুরু না করে, চলতি কাজগুলিকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় মন দিতে পারে গ্রুপটি। স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকরাও এই প্রচেষ্টায় হাত লাগান, যার ফলে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে সংস্থাটি। মূল জোর বাস্তবসম্মত সহায়তার উপরেই। প্রয়োজনে কারও হাতে দুপুরের খাবার তুলে দেওয়া হোক বা পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, গ্রুপের বিশ্বাস, তুলনামূলকভাবে সহজ উদ্যোগও নিয়মিত করে গেলে তা মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।

ব্যবসার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক অঙ্গীকার

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আবাসন শিল্পে থাকার সুবাদে কলকাতার বদল ও বেড়ে ওঠা কাছ থেকে দেখেছে স্বস্তিক গ্রুপ। ব্যবসার পথচলার পাশাপাশি চারপাশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোকেও বরাবর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে গ্রুপটি। গ্রুপের দাতব্য কাজকর্ম কোনও নির্দিষ্ট প্রচার-ক্যালেন্ডারে বাঁধা নয় এবং আলাদা করে স্বল্পমেয়াদি সিএসআর প্রকল্প চালু করার কোনও পরিকল্পনাও আপাতত নেই। বরং অগ্রাধিকার হল ‘অন্ন সেবা’, ‘জল সেবা’ এবং ‘শ্রী নারায়ণী নমো নমো’-র মাধ্যমে পরিচালিত অন্যান্য সমাজকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া।

স্বস্তিক গ্রুপের কাছে কুড়ি লক্ষেরও বেশি খাবার পরিবেশনের এই মাইলফলক একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, কিন্তু এটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। কাজ চলছে প্রতিদিন। রান্না হচ্ছে আরও একটি থালা, বেরিয়ে পড়ছে আরও একটি ফুড ট্রাক, আর সহায়তা পাচ্ছেন আরও বেশি মানুষ। আবাসন ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সমাজকল্যাণের প্রতি এই অঙ্গীকারকেও সমান দৃঢ় রাখতে চায় গ্রুপটি। কারণ তাদের বিশ্বাস, কলকাতার প্রতি তাদের অবদান শুধু নিজেদের তৈরি ভবনগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।

Disclaimer: এই ইমপ্যাক্ট ফিচারে প্রকাশিত যাবতীয় উপাদান, বিষয়বস্তু এবং/অথবা তথ্য সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞাপনমূলক (Advertorial) উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে উল্লিখিত বা প্রচারিত পণ্য এবং/অথবা পরিষেবার নির্ভুলতা, বিশ্বাসযোগ্যতা কিংবা গুণমান সম্পর্কে টিভি টুডে নেটওয়ার্ক লিমিটেড কোনও দায়ভার গ্রহণ করছে না, কোনও নিশ্চয়তা দিচ্ছে না এবং এগুলিকে সমর্থনও করছে না। এই ইমপ্যাক্ট ফিচারে উপস্থাপিত তথ্য বা দাবির ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দর্শক ও গ্রাহকদের নিজস্বভাবে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং অনুসন্ধান করার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করার সম্পূর্ণ দায় ও ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের।

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement