Swapan Dasgupta: 'সিঙ্গুরে টাটা-রাই ব্যবসা করতে পারেনি, আমরা কোথাকার কে!' কেন বললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী?

বিজনেস টুডে-র 'India@100' ইভেন্টে এসে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর মন্তব্য, 'টাটা-রাই যখন বাংলায় ব্যবসা করতে পারেনি, তখন আমরা কে কোথাকার!' পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আর্থিক অবস্থা, বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন তিনি।

Advertisement
'সিঙ্গুরে টাটা-রাই ব্যবসা করতে পারেনি, আমরা কোথাকার কে!' কেন বললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী?স্বপন দাশগুপ্ত
হাইলাইটস
  • 'টাটা-রাই বাংলায় ব্যবসা করতে পারেনি, আমরা কে কোথাকার!'
  • মন্তব্য রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর
  • পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আর্থিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন

'টাটা-রাই যখন বাংলায় ব্যবসা করতে পারেনি, তখন আমরা কে কোথাকার!' বিজনেস টুডে-র 'India@100' ইভেন্টে এসে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আর্থিক অবস্থা, বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, বাংলা বিগত ৫ বছর ধরে লাগাতার আর্থিক অবস্থার অবনতির মুখোমুখি হয়েছে। তবে সঠিক ভাবনা এবং বিশ্বাসের সঙ্গে ফের একবার এ রাজ্যের গৌরব ফেরানো সম্ভব। 

পশ্চিমবঙ্গ থেকে যুব সম্প্রদায় এবং মেধার লাগাতার চলে যাওয়া চিন্তাজনক বলেই মনে করছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, 'এ রাজ্যের প্রতিভা গোটা দুনিয়ায় নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে। কিন্তু তাঁরা নিজেদের রাজ্যেই থাকতে চান না। কলকাতা এখন কেবলমাত্র বয়স্ক অবসরপ্রাপ্তদের শহরে পরিণত হয়েছে। যুব সম্প্রদায় এখন বেঙ্গালুরু, গুরুগ্রাম, নয়ডা কিংবা সোদা বিদেশে গিয়ে স্থায়ী বসবাস শুরু করেছে। বরাবরের জন্য কলকাতা তথা রাজ্য ছেড়েছেন তাঁরা।'

স্বপন দাশগুপ্ত এ-ও বলেন, 'এমনও একটি ধারণা রয়েছে, বাঙালি ব্যবসা বিরোধী। এই ভাবনার বদল দরকার।' এরপরই সিঙ্গুর থেকে টাটার চলে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'টাটা-রাই যদি পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা করতে পারেনি, তাহলে আমরা কোথাকার কে!'

বুদ্ধিজীবীদের নিশানা
স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের বুদ্ধিজীবী মহলের ভাবনাচিন্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, 'দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের ব্যবসাদারদের ভাবনা দমিয়ে রাখা হয়েছে। হতাশার এই পরিবেশ শেষ করতে হবে। আশা জাগাতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের একাংশ মনে করেন, রাজ্যের এই পরিবর্তন সবচেয়ে খারাপ। তাঁরা আমাদের অপছন্দ করেন।'

জমি অধিগ্রহণের চ্যালেঞ্জ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরের প্ল্যান
রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং, এ কথা মানছেন অর্থমন্ত্রী। স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট করেছেন, ভূমি সংস্কার এবং জমি উপলব্ধ হওয়ার উপর ব্যবসায়িক রণনীতি নির্ভর করছে।  তাঁর কথায়, 'বাংলায় জমি অধিগ্রহণ বরাবরই একটি বড় ইস্যু। জমির অংশ অনেক ছোট কিন্তু মালিকানার নিয়ম বড্ড জটিল।'

Advertisement

স্বপন দাশগুপ্তর মতে, 'বড় বড় প্রজেক্টের জন্য বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মতো এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের গতিবিধিকে নতুন দিশা দিতে হবে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের কাছে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্ট তৈরি হতে চলেছে। আবার বরাবর বিনিয়োগের উপযুক্ত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হওয়া দুর্গাপুর-আসানসোল বেল্টকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা হবে।'

ভবিষ্যতের বাংলা কেমন হবে?
রাতারাতি কোনও চমৎকার হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। তবে পরিবর্তন হয়েছে, তা প্রমাণ করে দেখাবে এই সরকার, এমনটাই জানাচ্ছেন তিনি। স্বপন বলেন, 'আমাদের প্রমাণ করে দেখাতে হবে, এই পরিবর্তন স্থায়ী। যদি আগামী ৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সবচেয়ে বেশি গ্রোথ রেট অর্জন করে ফেলে, তবে রাজ্যের ঐতিহাসিক গর্ব এবং আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরে আসবে।'  
 

 

POST A COMMENT
Advertisement