তেল সাপ্লাই বন্ধ করল সৌদি আরবপরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকো। এর প্রভাব ভারতেও পড়তে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর এই সিদ্ধান্ত। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হরমুজ প্রণালীতে জোগানে বাধা তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহণ আনায় এই পাইপলাইনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
সৌদি আরবের তরফে সরবরাহ বন্ধ রাখার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশ চড়া। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০৩.৫ ডলারের কাছাকাছি। ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০১ ডলার।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ সৌদির তেল?
ভারতের জন্য সৌদি আরব দীর্ঘ দিন ধরেই অপরিশোধিত তেল অন্যতম জোগানদার। নিজের মোট প্রয়োজনের প্রায় ৯ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের কাছ থেকে আমদানি করে ভারত। সৌদি আরব ছাড়াও অন্য দেশগুলি থেকে অপরিশোধিত তেল পাওয়া নিয়ে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি আশাবাদী। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং রাশিয়ার তেলের উপর পাওয়া ছাড় কমে যাওয়ার কারণে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এর পাশাপাশি শিপিং খরচও বাড়তে পারে। সহজ ভাষায়, কার্গো জাহাজে করে অপরিশোধিত তেল ভারতে আনতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আরও বেশি খরচ করতে হতে পারে।
তেল আনার পথ বন্ধ
আরামকো শুধুমাত্র একটি পথ দিয়ে ভারতে তেলের জোগান বন্ধ করেনি। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালী, দুই পথেই ভারতে সরাসরি তেল সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ আগেই অনেকটা কমে গিয়েছিল। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত-সহ অন্যান্য দেশে সৌদি তেল পৌঁছনোর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ কার্যত বন্ধ।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত একেবারেই সৌদি তেল পাবে না। কিছু সৌদি তেলের জাহাজ ভারতে পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আনা হতে পারে সেই জাহাজগুলিকে। তবে এই তেলের পরিমাণ অনেকটাই কম হতে পারে।
চাপ দামের উপর
মূল সমস্যা দামের। ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির পক্ষে অন্য দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আনা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য কতটা বেশি দাম দিতে হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে। তার উপর তেল ট্যাঙ্কারের ভাড়াও বেড়েছে। রেকর্ড দরে পৌঁছেছে পরিবহণ খরচ । অর্থাৎ ভারতীয় তেল সংস্থাগুলির উপর একই সঙ্গে দু'দিক থেকে চাপ তৈরি হতে পারে। এক দিকে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি, অন্য দিকে সেই তেল ভারতে নিয়ে আসার খরচও বেশি।
সমস্যা কত দিনের?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে তৈরি হওয়া এই বাধা কত দিন স্থায়ী হয় এবং সৌদি আরব থেকে ভারতে সরাসরি তেল সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হয়। কারণ বেশি সময় লাগলে ভারতকে বিকল্প উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি দামে অপরিশোধিত তেল কিনতে হতে পারে। তার সঙ্গে বাড়তি শিপিং খরচ। বাড়বে আর্থিক চাপ।
কমেছে ভারতের তেল আমদানিও
এই পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিসংখ্যানও মাথায় রাখা দরকার। অগাস্টে ভারত প্রায় ১৯.০১ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুলাইয়ের তুলনায় যা ১১ শতাংশেরও কম। গত বছরের অগাস্টের তুলনাতেও আমদানি প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। ভারতের মোট জ্বালানি খরচও মাসের হিসাবে ৬.৩ শতাংশ কমে ১৮.৬১ মিলিয়ন মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই সর্বনিম্ন।