10, 20 টাকার নোট এবার পলিমারের বানানোর ভাবনা আরবিআইয়ের।১০ টাকা, ২০ টাকার কাগজের নোটের দিন কি শেষ? আর দেখা যাবে না বাজারে! কেন? একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাগজের নোটের বদলের বিকল্পের খোঁজে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। উদ্দেশ্য, টেকসই নোট। আপাতত এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্তরেই। তা সফল হলে কাগজের নোট বলে কিছু থাকবে না।
আসল খবরটা হল, আগামী বছর থেকেই দেশের বাজারে দেখা যেতে পারে পলিমার বা প্লাস্টিকের তৈরি ১০ এবং ২০ টাকার নোট। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। আপাতত প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রথমে ১০ এবং ২০ টাকার পলিমার নোট আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কতটা সফল হয়, তার ওপরেই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। ট্রায়াল সফল হলে ২০২৭ সাল নাগাদ পুরোদমে প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে খবর। পরে অন্যান্য মূল্যের নোটও প্লাস্টিকে আনতে পারে আরবিআই।
পলিমার কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র চেয়েছে আরবিআই। আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে আগ্রহীদের দরপত্র জমা দিতে হবে। তবে শর্তও রয়েছে। সেটা হল, চিন বা পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন থাকলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না কোনও সংস্থা। শুধু তাই নয়, ওই দুই দেশ থেকে কোনও কাঁচামালও সংগ্রহ করা যাবে না। এমনকি অতীতে চিন বা পাকিস্তানে কাজ করেছেন, এমন কোনও কর্মীকেও নেওয়া যাবে না এই প্রকল্পে। এর পাশাপাশি, ভারতের স্থল সীমান্তের দেশগুলির কোনও সংস্থা যদি এই টেন্ডারে অংশ নিতে চায়, তাদের ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেডের রেজিস্ট্রেশন কমিটির কাছে নথিভুক্ত হতে হবে। ব্যাপারটা হল, সুরক্ষাবিধির সঙ্গে কোনওরকম আপস করতে নারাজ আরবিআই।
বিশ্বজুড়ে পলিমার সাবস্ট্রেট শিট উৎপাদনকারীদের কাছে দরপত্র চেয়েছে আরবিআই-এর নোট ছাপানোর শাখা সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড। এই শিটগুলোতেই উন্নতমানের সিকিউরিটি ফিচার থাকবে। এগুলি দিয়েই ছাপা হবে নোট। প্রাথমিক চাহিদা মেটাতে মোট ৬৮,০০০ রিম বায়োক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন ভিত্তিক পলিমার সাবস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মূল্যের নোটের জন্য ৩৪,০০০ রিম করে বরাদ্দ থাকবে। প্রতি রিমে থাকবে ৫০০টি করে শিট। এই সাবস্ট্রেটে নির্দিষ্ট কিছু অত্যাধুনিক সুরক্ষা ফিচার থাকা বাধ্যতামূলক।