
ইতালি সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জর্জিয়া মেলোনিকে 'মেলোডি' টফির একটি প্যাকেট উপহার দিয়েছেন। তারপর থেকেই চোখের নিমেষে বিকোতে শুরু করেছে এই টফি। রাতারাতি ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছে পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারেও। নেটপাড়া জুড়ে শোরগোল। ট্রেন্ড করছে #Melody।
মঙ্গলবার ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ে পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫.২৫ টাকায়। গত এক সপ্তাহে শেয়ারটি প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেল। তবে অবাক করার বিষয় হল, তালিকাভুক্ত সংস্থা পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ আদতে মেলোডি টফি তৈরি করে না।
তাহলে মেলোডি তৈরি করে কে?
মেলোডি তৈরি করে Parle Products। জনপ্রিয় এই FMCG সংস্থা পার্লে-জি, মোনাকো, ক্র্যাকজ্যাক, ম্যাঙ্গো বাইট এবং পপিন্সের মতো প্রোডাক্টের জন্য পরিচিত।
অন্যদিকে, পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ একটি আলাদা BSE তালিকাভুক্ত সংস্থা এবং মেলোডি ক্যান্ডির সঙ্গে তাদের কোনও সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমন একটি ঘটনা হতে পারে যেখানে খুচরো বিনিয়োগকারী এবং ট্রেডাররা “Parle” নামটির সঙ্গে ভাইরাল মেলোডি মুহূর্তকে যুক্ত করে একই নাম বহনকারী তালিকাভুক্ত সংস্থার শেয়ার কেনার দিকে ঝুঁকেছেন।
কীভাবে শুরু হল 'পার্লে' ঘিরে চর্চা?
মোদী এবং মেলোনির একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই চর্চা শুরু হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদী মেলোনিকে মেলোডি ক্যান্ডির একটি প্যাকেট উপহার দিচ্ছেন। বহু নেটিজেন এটিকে দুই প্রধানমন্ত্রীর 'মেলোডি মোমেন্ট' বলে ভাইরাল করতে শুরু করেন।
পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক্স-এ ভিডিওটি শেয়ার করে লেখেন, 'উপহারের জন্য ধন্যবাদ।' দু'জনকে সেই নিয়ে হাসাহাসিও করতে দেখা যায়। নেটিজেনরাই মোদী এবং মেলোনি, দুই প্রধানমন্ত্রীর জুটিকে 'মেলোডি' নাম দিয়েছেন। আর সেই নামেরই ক্যান্ডি কিনে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়ে লাইমলাইট কেড়ে নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং লক্ষাধিক ভিউ, প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য পায়। ভিডিওটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরই পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে জোরদার কেনাবেচা শুরু হয়।
শেয়ারের ওঠানামা
সাম্প্রতিক সময়ে দলাল স্ট্রিটে এমন একাধিক ঘটনা দেখা গিয়েছে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা, ভাইরাল ট্রেন্ড বা সংস্থার নাম নিয়ে বিভ্রান্তির জেরে শেয়ারের দামে বড়সড় ওঠানামা হয়েছে।
বিশেষত ছোট এবং কমদামি শেয়ারগুলিতে এমন হঠাৎ উত্থান প্রায়ই দেখা যায়, যখন খুচরো বিনিয়োগকারীরা ট্রেন্ডিং কোনও ঘটনার সঙ্গে কোম্পানিকে যুক্ত করেন, যদিও বাস্তবে তার সরাসরি ব্যবসায়িক প্রভাব নাও থাকতে পারে।
তবে মঙ্গলবারের উত্থান সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার এখনও চাপের মধ্যেই রয়েছে। সংস্থার শেয়ারদর এখনও প্রায় গত তিন মাসে ৪১ শতাংশ কমেছে, ছয় মাসে ৪৬ শতাংশ নেমেছে এবং এক বছরে ৬৮ শতাংশেরও বেশি পতন হয়েছে।
তবে এদিনের ঘটনা প্রমাণ করল, ভাইরাল মুহুর্ত এবং অনলাইন ট্রেন্ড এখন শেয়ার বাজারের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ট্রেডিংয়ের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে।