পেঁয়াজের পাইকারি বাজারের দাম জানুনবেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। সরকারের একাধিক পদক্ষেপের পরেও বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত কয়েক দিনে পেঁয়াজের দামে যে লাগামছাড়া দামবৃদ্ধি, তাতে রাশ টানা যায়নি এখনও। বিভিন্ন পাইকারি বাজারে এখনও ৫ কেজি পেঁয়াজ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানে কেজি প্রতি দাম ৫০ টাকা। কোথাও কোথাও দাম তারও বেশি।
গত কয়েক দিন ধরেই একের পর এক জিনিসের দাম বেড়েছে। চিনির দাম ইতিমধ্যেই ঊধ্বর্মুখী। মিষ্টির স্বাদ এখন তেতো। অন্যদিকে পেঁয়াজের ঝাঁজ চোখে জল আনছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। যেমন- মজুত স্টক বাজারে ছাড়া থেকে নাসিক থেকে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালানো। কিন্তু তার প্রভাব বাজারে এখনও দেখা যাচ্ছে না। বরং পেঁয়াজের দাম ক্রমেই বাড়ছে।
কত দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ?
পেঁয়াজের দামবৃদ্ধির এখনও অব্যাহত। রবিবার দেশের রাজধানীতে ৫ কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম খুব একটা কম না হলেও কেজি প্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। খুচরো বাজারের তুলনায় যা কিছুটা কম। খুচরো বাজারে তো পেঁয়াজের দাম এখন কেজি প্রতি ৬০, ৭০ এমনকি কোথাও কোথাও ৮০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।
নাসিকে পাইকারি দামে পতন
নাসিক থেকে দেশের বিভিন্ন শহরের উদ্দেশে চালানো হচ্ছে 'কান্দা এক্সপ্রেস'। লক্ষ্য, পেঁয়াজের জোগান বাড়ানো। শুক্রবার প্রথম 'কান্দা এক্সপ্রেস' দিয়ে নাসিক থেকে প্রায় ৪৫৩.৬৫ টন পেঁয়াজ দিল্লিতে পৌঁছয়। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, দেশের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের বাজার নাসিকের লাসালগাঁওতে পাইকারি পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। বৃহস্পতিবার প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ছিল ৪,২৫০ টাকা। শুক্রবার তা নেমে হয়েছে ৩,৮০০ টাকা।
পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ল? সেটা জানতে এই রিপোর্টটা ক্লিক করে পড়ুন- Sugar Price Hike এর পর এবার Onion Price Hike, দাম বাড়ার আসল কাহিনি জানুন
খুশি নন ব্যবসায়ীরা
একটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে খুশি নন পেঁয়াজ চাষিরা। মহারাষ্ট্র স্টেট অনিয়ন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাসিক জেলা সভাপতি জয়দীপ ভাদানের বক্তব্য, সরকারের পদক্ষেপের সময়টাই অত্যন্ত খারাপ। পেঁয়াজের দাম বাড়লেই ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে। কিন্তু দাম পড়ে গেলে এবং চাষিদের লোকসান হলে একই রকম তৎপরতা দেখা যায় না।
তিনি দাবি করেছেন,'মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পেঁয়াজ চাষিদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ওই সময়ে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম এতটাই কমেছিল যে চাষের খরচও ওঠেনি। প্রতি কুইন্টালে উৎপাদন খরচ প্রায় ২,০০০ টাকা। সেখানে লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষিরা। প্রতি কুইন্টালে ১,৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল কৃষক সংগঠনগুলি। কিন্তু সেই দাবিতে কোনও সাড়া মেলেনি। এখন যখন চাষিরা ফের কিছুটা ভাল দাম পেতে শুরু করেছিলেন, তখনই বাফার স্টকের পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ায় দাম ফের পড়তে শুরু করেছে। ফলে চাষিদের লোকসান হচ্ছে'।
কবে কমবে পেঁয়াজের দাম?
পাইকারি বাজারে খারিফ মরসুমের নতুন পেঁয়াজের জোগান না আসা পর্যন্ত অন্তত আরও ২ মাস, মানে ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম চড়া থাকতে পারে। তবে আগামী দিনে দাম কতটা কমবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের ভর্তুকিতে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগের উপর। ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজ়িউমার্স ফেডারেশন (NCCF) এবং ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (NAFED)- এই দুই সমবায় সংস্থার মাধ্যমে কেজি প্রতি ২৫ টাকা দরে ভর্তুকিতে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।
ভোক্তা বিষয়ক দফতরের সচিব রোহিত কুমার সিং জানিয়েছেন, অগাস্টের মাঝামাঝি থেকেই বাজারে সরকারি মজুতের পেঁয়াজ ছাড়া শুরু হয়েছে। দাম যাতে আরও না বাড়ে এবং সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পান, সে জন্য খুচরো বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়ানো হচ্ছে। অগাস্টের মাঝামাঝি থেকে দেশের ২২টি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১.৭ লক্ষ টন সরকারি মজুতের পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়েছে।
ফলে বাজারে নতুন খারিফ পেঁয়াজের জোগান না আসা পর্যন্ত দাম খুব দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। তবে সরকারি মজুতের পেঁয়াজ আরও বেশি পরিমাণে বাজারে ছাড়া হলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।