
করোনা পরিস্থিতির পরেই বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে আর্থিক সঙ্কট। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এই সঙ্কট ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে। এমনকি আমেরিকাও ক্রমবর্ধমান ঋণ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে ভবিষ্যতে ভারতকে যাতে এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার ঋণ মোকাবেলার জন্য টার্গেট সেট করছে। কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ঋণ হ্রাস এবং রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে অ্যাকশন নিচ্ছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
সোমবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ঋণ জিডিপির ৫০ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখাই সরকারের টার্গেট। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ঋণ কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভারতের ঋণ ম্যানেজমেন্টের এই পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সীতারমন এই কথা জানান।
২০৩০ সালের মধ্যে ঋণ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, রাজস্ব ঘাটতি কমানোর ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার প্রতি বছরের বাজেটে প্রতিফলিত হয়। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ন্যাশনাল ঋণ জিডিপির ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বজুড়ে অনেক দেশ ঋণ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। তবে এই পরিস্থিতিতেও ভারত ঋণ কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
রাজস্ব ঘাটতি বলতে কী বোঝায়?
রাজস্ব ঘাটতি হল, ঋণ ছাড়া একটি সরকারের মোট ব্যয় এবং মোট আয়ের মধ্যেকার পার্থক্য। এই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হয়। অন্যদিকে, জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) একটি নির্দিষ্ট সময়কালে কোনো দেশে উৎপাদিত পণ্য ও সার্ভিসের মোট মূল্যকে প্রতিফলিত করে। জিডিপির অনুপাতে ঋণ বিবেচনা করলে তা আমাদেরকে দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় সরকারের ঋণের বোঝা বুঝতে সাহায্য করে।
মাথাপিছু আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে মাথাপিছু আয় বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা মহামারী, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ওঠানামা অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সরকার এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে যে, এই বিষয়গুলো যেন সাধারণ মানুষের উপর উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব না ফেলে। মাথাপিছু আয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।