আগেভাগেই সারের ভর্তুকি বাড়াতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। Fertiliser Subsidy Budget 2028: বিশ্ববাজারে সারের দাম বাড়ছে। এদিকে দেশে জ্বালানির খরচও বেড়ে চলেছে। বাড়ছে সারের চাহিদাও। এহেন পরিস্থিতিতে আগেভাগেই সারের ভর্তুকি বাড়াতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। জানালেন, সারের ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা ভাবছে কেন্দ্র। ২০২৮ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে (FY28) এই খাতে বাড়তি অর্থ রাখা হতে পারে। খরচ সামলাতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত বরাদ্দ হতে পারে।
চলতি অর্থবর্ষে সারের ভর্তুকিতে বরাদ্দ ছিল ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাবে সেই খরচ ৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বরাদ্দের ৬৫ শতাংশের বেশি খরচ হয়ে গিয়েছে। তাই পরের বাজেটে সারের খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে সার সংক্রান্ত দফতরের আলোচনা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
ভর্তুকির চাপ বাড়ছে কেন?
ভারত কৃষি নির্ভর দেশ। ফলে এদেশে প্রচুর সার প্রয়োজন। দেশের প্রয়োজনীয় সারের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। ফলে বিদেশের বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে দেশে। তবে চাষিদের পক্ষে অত দাম দিয়ে সার কেনা অসম্ভব। সেই কারণেই বরাবরই সরকার সারে ভর্তুকি দেয়। ফলে কম দামে সার কিনতে পারেন কৃষকরা।
সম্প্রতি মিউনিখে সিকিউরিটি সম্মেলনে সে বিষয়টিই তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সাপ্লাইতে সমস্যা হলে দেশেও তার প্রভাব পড়ে। সেটি নিয়ন্ত্রণ করা না হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও সংকটের মুখে পড়তে পারে।
তাঁর বক্তব্য, বিদেশ থেকে প্রায় ৩,০০০ টাকায় কেনা সার কৃষকদের মাত্র ৩০০ টাকায় দেওয়া হয়। বাকি প্রায় ২,৭০০ টাকা খরচ সরকারই বহন করে। সাধারণ মানুষ থেকে প্রাপ্ত কর ও পাবলিক সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত টাকার এভাবে রি-ডিস্ট্রিবিউশন হয়।
ইউরিয়া ও ডিএপির খরচ বাড়ছে
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে একের পর এক অশান্তি লাগার আগে, পরিস্থিতি অনেকটা ভালই ছিল। আগে ৪৫ কেজি ইউরিয়ার বস্তায় ভর্তুকি ছিল ১,৩৫০ টাকা। এখন তা বেড়ে ২,৭৭৫ টাকা হয়েছে। ৫০ কেজি ডিএপি সারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি আগে ছিল ২,১০২ টাকা। এখন সেটি বেড়ে হয়েছে ৩,৫২৩ টাকা।
বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ডিএপি-র দাম টন-প্রতি ৬৮১ ডলার থেকে বেড়ে ৯৪০ ডলার হয়েছে। সালফারের দামও দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। এদিকে দেশে বিভিন্ন জটিল সারের উৎপাদনও প্রায় ২৬% কমে গিয়েছে।
তবে বাজেটে শেষ পর্যন্ত কত টাকা বরাদ্দ হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম এবং কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। আপাতত পুরোটাই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধ-অশান্তির প্রভাব যে আমাদের ভাতের পাতেও পড়ে, তারই প্রমাণ এই সারের দাম বৃদ্ধি।