Maa Kali Bhog: কচি পাঁঠা, পোড়া শোল আর সুরা, কালীপুজোয় দক্ষিণেশ্বর-তারাপীঠে মায়ের ভোগে কী কী?

মন্দিরে মন্দিরে চলছে মায়ের ভোগ রান্নার আয়োজন। কালীপুজোর ভোগে থাকে নিরামিষ-আমিষ উভয় পদই। কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ কিংবা নৈহাটি বড়মার পুজোয় মাকে কী কী ভোগ দেওয়া হয়?

Advertisement
 কচি পাঁঠা, পোড়া শোল আর সুরা, কালীপুজোয় দক্ষিণেশ্বর-তারাপীঠে মায়ের ভোগে কী কী?মা কালীর ভোগে কী কী?
হাইলাইটস
  • মা কালীর আরাধনার জন্য প্রস্তুতি চলছে
  • কালীপুজোর ভোগে থাকে নিরামিষ-আমিষ উভয় পদই
  • তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাটে কী কী ভোগ থাকে?

রবিবার রাতে মা কালীর আরাধনার জন্য প্রস্তুতি চলছে কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠে। মন্দিরে মন্দিরে চলছে মায়ের ভোগ রান্নার আয়োজনও। কালীপুজোর ভোগে থাকে নিরামিষ-আমিষ উভয় পদই।  

সতীপীঠ কালীঘাট,  কালীবাড়ি, আদ্যাপীঠ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি, শান্তিনিকেতনের কাছে কংকালিতলা, কালনার সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, তারাপীঠ, জয়নগরের ময়দা কালীবাড়ি ও ধন্বন্তরি কালীবাড়ি, হালিশহরের রামপ্রসাদী, নৈহাটির বড়মা, সমস্ত জায়গাতেই মায়ের ভোগ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ থাকে তুঙ্গে। 

কালীপুজোর যে ভোগ হয় তা অন্যান্য পুজোর থেকে বেশকিছুটা আলাদা। স্থান বিশেষে নিরামিষ ভোগের সঙ্গে মায়ের পুজোতে আমিষ ভোগও থাকে। নিরামিষ ভোগের মধ্যে যেমন থাকে অন্ন ভোগ, পোলাও ভোগ – সাদা ভাত, খিচুড়ি, শুক্ত, শাক, ডাল, পাঁচ রকম ভাজা, পাঁচমিশালী তরকারি, আলু পটোলের তরকারি, ফুলকপির তরকারি, লুচি, ছানার তরকারি, খেজুরের চাটনি, পায়েস, মিষ্টি ৷ আমিষ ভোগে কালীকে নিবেদন করা হয় যেকোনও আঁশযুক্ত মাছ রুই মাছ, কাতলা মাছ, ইলিশ মাছ, চুনো মাছের টক, পোড়া শোল মাছ মাখা আর পিয়াঁজ রসুন ছাড়া নিরামিষ কচি পাঁঠার মাংস ৷

তারাপীঠ: কালীপুজোর দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে শুরু হয় মায়ের ভোগ। অন্নভোগে থাকে ৫ রকমের ভাজা, সাদা ভাত, পায়েস ও মিষ্টি। থাকে ফ্রায়েড রাইসও। আমিষ ভোগের মূল উপাদান হল শোল মাছ। ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে ভোগ গ্রহণ করেন না মা তারা। সঙ্গে থাকে বলি দেওয়া পাঁঠার মাংস। এবং অবশ্যই কারণবারি।  

দক্ষিণেশ্বর: দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মা ভবতারিণীর মন্দিরে বলি প্রথা নিষিদ্ধ। নারকেল ফাটিয়ে, সেই নারকেলের জল দেওয়া হয় মাকে। কালীপুজোর দিন প্রতি বছরের মতোই মা সেজে ওঠেন বেনারসী শাড়ি ও সোনার অলঙ্কারে। মায়ের অন্নভোগে থাকে ঘি-ভাত, ৫ রকমের ভাজা, ৫ রকমের তরকারি, ৫ রকমের মাছ। সঙ্গে ভোগে থাকে চাটনি-পায়েস, ৫ রকমের মিষ্টি। শ্রীরামকৃষ্ণের দেখানো পথেই মা কালী পুজিত হন দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে। 

Advertisement

কালীঘাট: কালীঘাটে দুপুর দু'টো নাগাদ মাকে দেওয়া হয় অন্নভোগ। তাতে থাকে পোলাও, ঘি-ভাত, শুক্তো, আলু-বেগুন-পটল-উচ্ছে-কাঁচকলা দিয়ে পাঁচমিশালি তরকারি, পোনা মাছ, চিংড়ি মাছ, খেঁজুর-কাজু-কিশমিশ দিয়ে চাটনি, পায়েস, পান। আর সেই সঙ্গে প্রথম বলির পাঁঠার মাংস। সেই মায়ের ভোগই মাটির হাঁড়ি করে বিতরণ করা হবে ভক্তদের। রাতে লক্ষ্মীরূপী মাকে ভোগ নিবেদন করা হয় নিরামিষ। সেই শীতল ভোগের আয়োজনে থাকবে ময়দার লুচি, খিচুড়ি-তরকারি, ২-৩ রকমের ভাজা, রাবড়ি-রসগোল্লা-দই-মিষ্টি-পান-জল। 

ঠনঠনিয়া কালী বাড়ি: কলকাতার অন্যতম  প্রাচীন কালী মন্দির হল ঠনঠনিয়া কালী বাড়ি। বিধানসরণির উপরে কলেজস্ট্রীটের কাছে এই মন্দিরে  কালী পুজোয় নিবেদন করা হয় নিরামিষ ভোগ।

নৈহাটি বড়মা: কালীপুজোয় বড়মার ভোগে থাকবে খিচুড়ি, পাঁচমেশালি তরকারি, পোলাও, আলুর দম, সাদা ভাত, লুচি, মিষ্টি। হরেক রকমের জনপ্রিয় মিষ্টি দেওয়া হবে বড়মাকে। যেমন রসগোল্লা, স্বরপুরিয়া, লাড্ডু। পুজো ও অঞ্জলি শেষে ভক্তদের মধ্যে ভোগ ও প্রসাদ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থাও থাকে। পুজো শেষে ৮ নভেম্বর রাতেই খুলে দেওয়া হবে বড়মার ভোগের কাউন্টার। শ্যাম রোড এবং জগবন্ধু মোড়ে হবে এই ভোগের কাউন্টার। কুপনগুলি বিলি হবে নৈহাটি নরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যানিকেতন (বয়েজ স্কুল) ও নৈহাটি মহেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এবং নৈহাটি পুরসভায়। রাত দেড়টা থেকে ২টোর মধ্যে কুপন সংগ্রহ করে নিতে হবে দর্শনার্থীদের। 

 

POST A COMMENT
Advertisement