জোর দিনগুলিতে অনেকে সংসারের মঙ্গল, মানসিক শান্তি এবং জীবনের বাধা কাটানোর প্রার্থনা করেন।দেবীপক্ষের শুরু। মা দুর্গার আরাধনা। বিশ্বাস, এই সময়ে নিয়ম মেনে দেবীর নাম ও মন্ত্র পাঠ করলে মনে ভরসা জাগে। আপনিও কি পুজোর এই বিশেষ সময়ে দেবীর আরাধনায় কিছুটা সময় দিতে চান? তা হলে প্রতিদিন সহজ একটি মন্ত্র পাঠ করতে পারেন।
কোন মন্ত্র পাঠ করবেন?
মা দুর্গার আরাধনায় বহুল প্রচলিত একটি মন্ত্র হল;
‘ওঁ দুং দুর্গায়ৈ নমঃ।’
সংস্কৃত মন্ত্রটির অর্থ, দেবী দুর্গাকে প্রণাম জানানো। ভক্তদের বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে এই মন্ত্র পাঠ করলে মনে সাহস ও শান্তি আসে। কঠিন সময়ে নিজের মনকে স্থির রাখতেও প্রার্থনা অনেকের কাছে ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে।
কীভাবে মন্ত্রপাঠ করবেন?
পুজোর দিনগুলিতে সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরুন। বাড়িতে মা দুর্গার ছবি বা মূর্তি থাকলে তার সামনে বসতে পারেন। চাইলে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীকে ফুল নিবেদন করুন। এর পর শান্ত মনে মন্ত্রটি পাঠ করুন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মন্ত্রপাঠ করার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন। কেউ কেউ ১০৮ বার মন্ত্র জপ করেন। তবে তা সম্ভব না হলে নিজের সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েক বারও পাঠ করা যায়। সংখ্যার চেয়ে মনোযোগ ও ভক্তিকে গুরুত্ব দেওয়াই ভাল।
মন্ত্র পাঠের সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। শব্দগুলি যতটা সম্ভব স্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ করুন। মন অন্য দিকে চলে গেলে আবার পাঠে মন ফেরানোর চেষ্টা করুন। পুজোর ব্যস্ততার মাঝেও কয়েক মিনিট নিজের জন্য রাখলে মন শান্ত করার সুযোগ মিলতে পারে।
জীবনে কী বদল আসতে পারে?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা দুর্গা শক্তি, সাহস এবং অশুভের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। তাই তাঁর আরাধনা বহু ভক্তের কাছে নতুন করে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। নিয়মিত প্রার্থনা করলে নিজের ভাবনা গুছিয়ে নেওয়া, ধৈর্য রাখা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সাহায্য পেতে পারেন।
তবে শুধু মন্ত্র পাঠ করলেই জীবনের সব সমস্যা রাতারাতি দূর হয়ে যাবে, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অর্থনৈতিক সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি কিংবা কাজের বাধা কাটাতে বাস্তব পদক্ষেপও জরুরি। প্রার্থনা সেই পথে মানসিক জোর জোগাতে পারে।
মনে রাখবেন, দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়। অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তাও দেয় এই উৎসব। সেই ভাবনাকে সঙ্গী করেই পুজোর দশ দিন কাটান।